kalerkantho


সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত

সুবিধাভোগীদের মতামতের ভিত্তিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল চূড়ান্ত হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



অধিকতর যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সুবিধাভোগীদের (স্টেকহোল্ডার) মতামতের ভিত্তিতে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল-২০১৮’ চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির আগামী বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। সংসদে উত্থাপিত বিলটিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনীও আনা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে।

গতকাল রবিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ। বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। এ ছাড়া বৈঠকে কমিটির সদস্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, শওকত হাচানুর রহমান (রিমন), হোসনে আরা লুত্ফা ডালিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল বহুল আলোচিত ৩২ ধারা বহাল রেখে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল-২০১৮’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি খসড়া আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। ব্যাপক সমালোচিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা তথ্য-প্রযুক্তি আইন থেকে সরিয়ে সেগুলো আরো বিশদ আকারে যুক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। ওই বিলে আলোচিত ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ কোনো সংস্থার কোনো ধরনের অতি গোপনীয় বা গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করেন বা করিতে সহায়তা করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে কম্পিউটার বা ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ।’

বিলে এ ধরনের অপরাধের শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এ ধরনের অপরাধের অনধিক ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আরো বলা হয়েছে, উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ সংঘটন করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এই ধারা নিয়ে বিলটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম চলছে। সংসদে উত্থাপনকালেও বিলের ওই ধারার বিরোধিতা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমাম। তিনি বলেন, ২০০৬ সালের আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ হয়েছে। সেটা বাতিলের প্রতিশ্রুতিও ছিল। কিন্তু ৫৭ ধারা বাতিল করে যে ৩২ ধারা করা হয়েছে, সেটা সংবিধানবিরোধী। যা জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করবে। বিলের ৩৯/খ ধারাও সংবিধানবিরোধী। আর কয়েকটি অপরাধে জামিন অযোগ্য বিধানে বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ বলে তিনি দাবি করেন। বিলটি উত্থাপনের আগে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় ওই সদস্য। তবে তাঁর সেই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এরপর বিলটি উপস্থাপন করা হয়।



মন্তব্য