kalerkantho


শত্রুকে ফাঁসাতে ছেলেকে হত্যা, নেপথ্যে পরকীয়া!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



শত্রুকে ফাঁসাতে ছেলেকে হত্যা, নেপথ্যে পরকীয়া!

প্রতিবেশীর সঙ্গে শত্রুতা ছিল বাড্ডার সাতারকুল এলাকার জাহিদ ওরফে জাহাঙ্গীরের। শত্রুদের ফাঁসাতে নিজের ছেলে আউসারকেই হত্যার পরিকল্পনা করে জাহিদ। সে অনুযায়ী গত ১৭ এপ্রিল রাতে ভাড়াটে খুনি দিয়ে কিশোর ছেলেকে শ্বাসরোধ ও ছুরিকাঘাতে হত্যার পর লাশ ধানক্ষেতে ফেলে আসে। পরদিন পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর জাহিদ বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি মামলা করে। আসামি করা হয় প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিন হেলু ও আব্দুল জলিলকে। তদন্ত করতে গিয়ে এ তথ্য জানা গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ জাহিদ ও অভিযুক্ত ভাড়াটে খুনি মজিদকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ বলছে, এ ঘটনার পেছনের কারণ আসামি হেলাল উদ্দিনের স্ত্রীর সঙ্গে জাহিদের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক। বিষয়টি জানত অন্য আসামি জলিল। এই সম্পর্ক নিয়ে হেলালের সঙ্গে জাহিদের বিরোধও চলে আসছিল। দুজনকে জব্দ করার জন্য জাহিদ নিজের ছেলেকেই হত্যার পরিকল্পনা করে।

গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ এসব তথ্য বিস্তারিত জানান। নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাড্ডা থানা এলাকার পূর্ব পদরদিয়ার একটি ধানক্ষেত থেকে গালে ও ঘাড়ে জখমসহ কিশোর আউসারের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় তার বাবা জাহিদের দায়ের করা হত্যা মামলা তদন্ত শুরু করেন বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুল হক সরকার।

উপকমিশনার মোস্তাক আহমেদ জানান, গত শুক্রবার সাতারকুল পদরদিয়ার রহমতউল্লাহ গার্মেন্টের পাশের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত হত্যাকারী আব্দুল মজিদকে (২৭)। পরদিন শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় আউসার হত্যায় জড়িত থাকার ব্যাপারে জবানবন্দি দেয় সে। জবানবন্দিতে মজিদ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী আউসারকে হত্যার জন্য ঘটনার দিন ছুরি ও নেশার ট্যাবলেট আনা হয়। পরে তাকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে সে।

বাড্ডা থানার এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, সাতারকুলে জাহিদের একটি চায়ের দোকান রয়েছে। আউসার মাঝে মাঝে অটোরিকশা চালাত। মাদকাসক্ত ছিল সে। তার খুন হওয়ার ঘটনায় হেলালকে ঘিরে তদন্ত চালাতে গিয়ে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ১৭ এপ্রিল রাতে আউসারের সঙ্গে এক ব্যক্তি যাচ্ছে এবং কিছু দূরে থেকে পেছন পেছন যাচ্ছে লুঙ্গি পরা আরেকজন। পরনের লুঙ্গি ও শার্ট দেখে ওই ব্যক্তিকে জাহিদ বলে সন্দেহ হয়। সে কারণে শুক্রবার তাকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করলে মজিদের সহযোগিতায় সন্তানকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে সে।

এই স্বীকারোক্তির পর বাড্ডা থানার এসআই শামসুল হক সরকার বাদী হয়ে জাহিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, ছেলেকে হত্যার পর খুনিকে কোনো টাকা দেয়নি জাহিদ। মামলায় জিতলে তাকে চাহিদামতো টাকা দেওয়ার কথা ছিল।

 


মন্তব্য