kalerkantho


লিমন হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত পেয়েছে পিবিআই

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



কলেজছাত্র লিমন হোসেন হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল রবিবার ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. সেলিম রেজা এ আদেশ প্রদান করেন। এর ফলে র‌্যাব ৮-এর তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) লুত্ফর রহমানসহ ছয় র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে লিমন হত্যাচেষ্টা মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হলো।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত লিমন হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘র‌্যাব আমাকে গুলি করে শুধু পঙ্গুই করেনি, সন্ত্রাসী বানানোর জন্য নানা রকম কারসাজি করেছে। পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় র‌্যাবের বিরুদ্ধে আমার মায়ের দায়ের করা মামলা আবার চালু হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি একদিন র‌্যাব সদস্যদের বিচার হবে।’

সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে বাড়ির কাছের মাঠে গরু আনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন কলেজছাত্র লিমন হোসেন। র‌্যাব তাঁকে গুলি করার পাশাপাশি সন্ত্রাসী সাজিয়ে আটজনের নামে দুটি মামলা দায়ের করে। এর একটি অস্ত্র আইনে এবং অন্যটি সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে। গুরুতর আহত লিমনকে ভর্তি করা হয় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে। সেখান থেকে নেওয়া হয় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে। একপর্যায়ে লিমনের বাম পা হাঁটু থেকে কেটে ফেলা হয়।

আলোচিত এ ঘটনায় লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম র‌্যাব ৮-এর ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন। ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নুসরাত জাহানের আদালতে এ নালিশি মামলা দায়ের হয়। পরে আদালতের নির্দেশে রাজাপুর থানা মামলাটি রেকর্ড করে। মামলার আসামিরা হলেন র‌্যাবের তৎকালীন ডিএডি লুত্ফর রহমান, কর্পোরাল মাজহারুল ইসলাম, কনস্টেবল আবদুল আজিজ, নায়েক মুক্তাদির হোসেন, সৈনিক প্রহল্লাদ চন্দ্র ও কার্তিক কুমার বিশ্বাস। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১২ সালের ১৪ আগস্ট র‌্যাব সদস্যদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এ বিষয়ে বাদী নারাজি আবেদন করলে তা খারিজ করে দেন বিচারক। এর পরও হাল ছাড়েননি লিমনের মা। তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন। ২৬ বার রিভিশনের শুনানি গ্রহণের পর অধিকতর শুনানির জন্য তা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করা হয়।

 


মন্তব্য