kalerkantho


প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা

সিলেটে শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছে না কৃষকরা

সিলেট অফিস   

২২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



সিলেটে শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছে না কৃষকরা

সিলেট অঞ্চলের হাওরে শ্রমিক সংকটে ঘরে ধান তুলতে পারছে না কৃষক। ছবিটি বিশ্বনাথ উপজেলার। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় আবাদ করা বোরো ধান দ্রুত কাটার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে ধান কাটার আহ্বান জানায় উপজেলা কৃষি অফিস। তবে শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে না পেরে অনেকটা আতঙ্কে দিন কাটছে কৃষকদের।

গতকাল দুপুরে শ্রমিকের অপেক্ষায় বিশ্বনাথের বাসিয়া সেতুর ওপর বসে ছিলেন কৃষক রইছ আলী। তিনি উদ্বেগজড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘গত বছর ৩০০ টাকা রোজে বোরো ধান কাটিয়েছি। কিন্তু এ বছর ৫০০ টাকা সেধেও ধান কাটার জন্য শ্রমিক খুঁজে পাচ্ছি না। ফলে পাকা ধান জমিতেই পড়ে আছে। জানি না কপালে কী আছে।’

কৃষক শহিদ মিয়া, মঈন উদ্দিনসহ আরো কয়েকজন জানায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর তাদের এলাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান ঘরে তোলা যাচ্ছে না। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমিক সংকটের কারণে তুলতে না পারা ধান জমিতে নষ্ট হচ্ছে দেখে স্কুলগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের অনেকে মাঠে নেমে পড়েছেন। অনেকেই মনের আনন্দে ধান কাটলেও কেউ কেউ আবার ধান কাটতে গিয়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারছে না। কয়েক দিন ধরে উপজেলার অনেক এলাকায় বোরো ধান কাটার ধুম পড়লেও শ্রমিক সংকটের কারণে কিছু এলাকায় এখনো ধান কাটতে পারেনি চাষিরা।

গত বছর আগাম বন্যার কারণে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে কাঁচা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার কোনো হাওর থেকেই কৃষকরা ধান গোলায় তুলতে পারেনি। চলতি বোরো মৌসুমে হাওরে বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি দেখা দিলেও এখন যথাসময়ে ধান গোলায় তুলতে পারবে কি না, সেই আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।

উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে হাওর ও বিলের সংখ্যা বেশি থাকায় এ ইউনিয়নে বেশি আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে চাউলধনী, গোয়াহরি গ্রামের বড় বিল, দুর্যাকাপন হাওর, দরঙ্গবিল উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের বেলার হাওর, ইকরাম বিল (পশ্চিম শ্বাসরাম), রামপাশা ইউনিয়নের নলিয়া বিল, রামচন্দ্র বিল, দোহাল বিল, উকলা বাঁধ, পাচলার খাল, ইলামেরগাঁও, লামাকাজী ইউনিয়নের হাজারাই বাঁধ, ভূরকির বিলেও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো চাষাবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৭৯৮ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে উফশী জাতের ধান চাষ হয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমিতে। হাইব্রিড ধান চাষ করা হয়েছে ৮৮০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের টেপু, গর্চি, গাছমাল ১৫০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার হাওরগুলোতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে সব ধান গোলায় তুলতে আরো ১০ থেকে ১৫ দিন লাগবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী নূর রহমান বলেন, ‘এরই মধ্যে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই কৃষকরা তাদের বোরো ধান কেটে ঘরে তোলেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান কাটার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। এরই মধ্যে হাওরের ৮০ শতাংশ এবং এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।’

 


মন্তব্য