kalerkantho


ড. কামাল বললেন

গুলিস্তানে গিয়ে দাঁড়াব, পারলে গুলি করে মারুক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



‘আমি একলা হলেও গুলিস্তানে গিয়ে দাঁড়াব, বলব—এভাবে চলতে পারে না। পারলে গুলি করে মারুক। আর সহ্য হয় না। এ যন্ত্রণার মধ্যে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।’ গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আয়োজিত ‘সংবিধানে বিধৃত আকাঙ্ক্ষা ও আজকের করণীয়’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এ কথা বলেছেন অন্যতম সংবিধান প্রণেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

গতকাল ছিল ড. কামাল হোসেনের ৮১তম জন্মদিন। তিনি বলেন, ‘অনেকে আমার দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। আমি বলি, যে যন্ত্রণার মাঝে বেঁচে আছি তার চেয়ে বরং মরে যাওয়াই ভালো। আজ দেশ যেভাবে চলছে, সে দেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা সংগ্রাম করিনি। আজ বিনা ভোটের এমপিরা দেশ শাসন করে। তাঁদের কথা আমাদের মেনে চলতে হয়। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, দেশ চলবে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে, ক্ষমতা বদলের মাধ্যমে। তবে একটি কথা জোর দিয়ে বলতে চাই, কোনোকালে কোনো দেশে স্বৈরাচার ক্ষমতায় থাকতে পারেনি, এ সরকারও পারবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘যারা হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করেছেন তাঁদের বলি, দয়া করে দেশ ছেড়ে চলে যান, টাকা ভোগ করুন আমাদের বাঁচান।’

বিকল্প ধারার সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘আজ দেশপ্রেমের বড় অভাব, দেশপ্রেমিকের দুর্ভিক্ষ চলছে। সংসদে কিছু বিনা ভোটের এমপি আছে তারা গণতন্ত্র লুণ্ঠন করছে। দেশে লুটপাট চলছে। তবে আমাদের ব্যর্থতা আমরা জনগণকে বোঝাতে পারলাম না, তাদের টাকাই ক্ষমতাসীনরা লুটে নিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এই যে গুম চলছে—এটা কিন্তু শিখেছে পেয়ারে পাকিস্তান থেকে।’

আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘যে বিচারক খালেদা জিয়ার রায় দিয়েছে, বলতে পারি ভাবীকালে সেই বিচারকের বিচার হবে। কারণ ওই টাকা চুরি হয়নি। টাকা অব্যবহৃত আছে। মামলায় খালেদা জিয়াকে আসামি করা ঠিক হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই সরকার অবৈধ, তবে আমাদের ব্যর্থতা আমরা রাস্তায় নামতে পারিনি।’

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিধান হচ্ছে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়, নির্বাচনকালে সংসদ থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘ভিসি যেভাবে কথা বলেন মনে হয় না উনি ভিসি। মনে হয় কারো অনুগত লোক।’ তিনি আরো বলেন, নির্বাচন না হলে অন্য কিছু হবে।

বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ‘দেশে অরাজকতা চলছে, লুটপাট চলছে। পরিবর্তন দরকার। তবে যারা পরিবর্তনের কথা বলে তাদের কথাও স্পষ্ট নয়। সে কারণে মানুষ সিদ্ধান্তহীনতায়।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, ‘হাজার কোটি টাকা চুরি করলে বিচার হয় না, তবে আড়াই কোটি টাকা চুরির দায়ে খালেদা জিয়ার বিচার হচ্ছে।’

সাবেক এমপি এস এম আকরাম বলেন, ‘ক্ষমতা চলে গেলে আওয়ামী লীগের কী হবে আল্লাহতালাই জানেন।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক বলেন, সরকার নির্বাচনের আগে মসজিদ নির্মাণ শুরু করেছে। এটা সাম্প্রদায়িকতা।

প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংলাপে আরো বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, আ ব ম মোস্তফা আমিন, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, যুব ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা মোহাম্মাদ হানিফ প্রমুখ।



মন্তব্য