kalerkantho


বরিশাল সিটি করপোরেশন

মশায় অতিষ্ঠ নগরবাসী নিধন বন্ধ এক বছর

বরিশাল অফিস   

২১ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বরিশাল নগরীতে এক বছর ধরে মশক নিধন কার্যক্রম বন্ধ। এই ফাঁকে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে অবাধে চলছে মশার বংশ বিস্তার। পাড়া-মহল্লা, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের আগে মশক নিধন কার্যক্রম না থাকায় মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অথচ বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বিকার। বিসিসির পরিচ্ছন্নতা বিভাগ জানিয়েছে, ওষুধ না থাকায় এই কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আর ওই ওষুধ সরবরাহ করেন স্বয়ং মেয়র আহসান হাবীব কামালের ছেলে কামরুল হাসান রুপম।

সরেজমিনে ও নগরীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুম শুরুর সময়টাতে মশার উৎপাত কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অলিগলির নালা-ডোবা ও ড্রেনে অবাধে চলছে মশার বংশবিস্তার। কিন্তু বরিশাল সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগ নেই। নগরীর কাউনিয়ার বাসিন্দা ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, মশার যন্ত্রণায় নগরবাসী অতিষ্ঠ। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিসিসিতে যোগাযোগ করেও ফল হয়নি। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন মশক নিধনকর্মী থাকলেও কাউন্সিলররা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এ অবস্থায় মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, জানা গেছে যে দীর্ঘদিন ধরে মশা নিধনের ওষুধ নেই। অথচ বিসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা দেখা যায় না।

নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক লিনা খানম বলেন, বরিশাল নগরীতে মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে দিনেও বাসায় মশারি টানিয়ে অবস্থান করতে হয়। মশা নিধনে কোনো কার্যক্রম না থাকায় তারা মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া আতঙ্কে আছেন।

সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষার্থী মেস বাসিন্দা চাঁদ সুলতানা বলেন, গরম পড়তে শুরু করেছে। বর্ষাও আসছে। এ অবস্থায় মশার উৎপাত বেড়ে গেছে ব্যাপকভাবে। রাতে তো কথাই নেই, দিনেও মশার যন্ত্রণায় স্থির হয়ে বসে থাকার উপায় নেই। বিসিসি কর্তৃপক্ষ অনতিবিলম্বে মশা নিধন কার্যক্রম শুরু না করলে বাসায় থাকাটাই দায় হয়ে পড়বে।

জানতে চাইলে বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা বলেন, সিটি করপোরেশনে মশার ওষুধ নেই বছরখানেক ধরে। তারা দুই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন—লার্ভিসাইড, যা মশার ডিম নষ্ট করে আর অ্যাডাল্টিসাইট যা মশা ধ্বংস করে। এই ওষুধের কোনোটাই মজুদ নেই। তিনি বলেন, একটি ওয়ার্ডে দৈনিক পাঁচ লিটার মশার ওষুধ ব্যবহার করা দরকার। সে অনুযায়ী নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে দৈনিক ১৫০ লিটার মশার ওষুধ ছিটানো প্রয়োজন। কিন্তু ওষুধ না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। আর ওষুধ কেনার দায়িত্ব মেয়রপুত্রের। তিনি সরবরাহ করেছেন কি না তা ডিসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ বলতে পারবে।

পরিচ্ছন্নতা শাখার পরিদর্শক ইউসুফ হোসেন বলেন, ওষুধ না থাকায় বেশ কয়েক মাস ধরে মশক নিধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। হ্যান্ড স্প্রে অল্প পরিমাণে থাকলেও ফগার মেশিনের ওষুধ একেবারেই নেই। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মশার ওষুধ কেনার জন্য টেন্ডারও আহ্বান করা হয়নি। কেননা গতবার টেন্ডার দিলেও কোনো ঠিকাদার তাতে অংশ নেননি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ঠিকাদাররা সময়মতো বিল পান না। মশার উৎপাত নিয়ন্ত্রণে বিসিসির তৎপরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বরিশালে চিকুনগুনিয়া কিংবা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিসিসির কোনো উদ্যোগ নেই।

সরকারি বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শফিকুর রহমান বলেন, মশা নিধনে বরিশালে কোনো কার্যক্রমই নেই। মশা নিধনে কলেজে এখন পর্যন্ত কোনো ওষুধ ছিটানো হয়নি। মশার উৎপাতে দিনের বেলায়ও কলেজে থাকা যায় না। শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারে না। নগর ভবনে ওষুধ ছিটানোর জন্য বলা হলেও কোনো ফল হয়নি। এদিকে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আগেভাগেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে সময়মতো মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, মশার ওষুধ কিছু আছে। প্রয়োজনে তা দেওয়া হয়। আরো ওষুধ সরবরাহ করা হবে। এরপর পুরো নগরীতে মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করা হবে।


মন্তব্য