kalerkantho


বৈষম্য বিলোপ আইনের খসড়া

দুই কমিশনের খসড়ায় আটকা আইন প্রণয়ন

রেজাউল করিম   

২০ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



দেশের হিজড়া সম্প্রদায়, যৌনকর্মী, দলিত, হরিজন সম্প্রদায়সহ অনগ্রসর নাগরিকদের প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপে আইন করার দাবি দীর্ঘদিনের। চার বছর আগে এ বিষয়ে আইনের খসড়া তৈরি করে আইন কমিশন। ওই খসড়া নিয়ে কাজ করছে আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি একই বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আরেকটি খসড়া তৈরি করে আইন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, আইন কমিশন একটি খসড়া তৈরি করে চার বছর আগে জমা দিয়েছে। একই বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পৃথক আরেকটি খসড়া তৈরি করে আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া আইন কমিশনের প্রতি অসম্মান। তাঁরা বলছেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নতুন খসড়া প্রণয়ন না করে আইন কমিশনের খসড়াটি হালনাগাদ করার পরামর্শ দিতে পারত।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৈষম্য বিলোপ আইনের নতুন করে খসড়া তৈরি করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আত্মপ্রচার ছাড়া আর কিছু না।’ তিনি বলেন, ‘আইন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যৌথভাবে বৈষম্য বিলোপ আইনের খসড়াটি প্রণয়ন করেছিল। ওই খসড়াটি প্রণয়নে বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক নেতৃত্ব  দিয়েছিলেন। দেশের সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে আইনটি প্রণয়ন বিষয়ে কথা বলেছে আইন কমিশন। তারা যে খসড়াটি তৈরি করেছে সেঠি অনেক সমৃদ্ধ। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সম্প্রতি যে খসড়াটি তৈরি করেছে, এটির প্রয়োজন ছিল না। এটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আত্মপ্রচার ছাড়া আর কিছু না। আইনটি প্রণয়নে সরকার যে বিলম্ব করছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই উদ্যোগ সেই বিলম্বকে আরো প্রলম্বিত করবে।’

২০১৪ সালে আইন কমিশন বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়নের সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন ড. মিজানুর  রহমান। তাঁর নেতৃত্বে মানবাধিকার কমিশন বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়নে আইন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা দেয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশন এ রকম আইনের খসড়া তৈরির আইনগত এখতিয়ার রাখে। এর আগে আইন কমিশন যে খসড়া করেছে, সেটিতে কী ছিল, আমরা পুরোপুরি জানি না। ওই খসড়ায় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির বঞ্চিত মানুষদের প্রতি বৈষম্যের বিষয় বাদ পড়েছিল বলে অনেকেই মানবাধিকার কমিশনের কাছে বলেছে। তারা একটি সম্পূর্ণ আইনের খসড়া প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। এ কারণে আমরা এই খসড়া প্রণয়ন করেছি।’  তিনি আরো বলেন, ‘আইন কমিশন যে খসড়াটি তৈরি করেছে, সেটি সরকারের কাছে রয়েছে। আমরাও একটি দিয়েছি। সরকার দুটি নিয়ে পর্যালোচনা করে একটি আইন প্রণয়ন করতে পারে। আইনটি প্রণয়ন করা খুব জরুরি।’

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটি আইন প্রণয়ন করতে হলে অনেক বিষয় দেখতে হয়। সব ধরনের বৈষম্য বিলোপে আইন করার জন্য আইন কমিশন থেকে ইতিপূর্বে যে খসড়া পাঠিয়েছে, সেটির ওপর কাজ করছে আইন মন্ত্রণালয়। মানবাধিকার কমিশনের পাঠানো সুপারিশটিও যাচাই-বাছাই করা হবে। সরকার সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এর জন্য যা যা দরকার, সবই করা হবে।’

আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৈষম্য বিলোপ আইন-২০১৪ প্রণয়নে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে আইন মন্ত্রণালয়ে আইনের খসড়াসহ সুপারিশ জমা দেয় আইন কমিশন। এর আগে ওই খসড়া প্রণয়নে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন কমিশনের সঙ্গে কাজ করে। ওই খসড়া তৈরি প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন কমিশনের সঙ্গে কাজ করেছে। ওই খসড়াটি প্রণয়নে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান চািরপতি এ বি এম খায়রুল হক নেতৃত্ব দেন।

গত ৮ এপ্রিল আইন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো মানবাধিকার কমিশনের প্রস্তুত করা নতুন খসড়ায় বলা হয়, এ ধরনের একটি আইন প্রণয়ন করা হলে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। সমাজে বিরাজমান বৈষম্য দূর করতে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হবে। মানবাধিকার কমিশনের খসড়া আইনে আইন লঙ্ঘনকারীর সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

 


মন্তব্য