kalerkantho


এলডিসি থেকে উত্তরণ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ব্রিফিং

এখন আর গরিব বদনাম থাকবে না

আজ ও কাল ঢাকা হবে উৎসবের নগর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, ‘সারা দুনিয়ায় আমাদের বদনাম। আমরা গরিব। এই বদনাম আপনাদের চেয়ে আমি বেশি সহ্য করেছি। কারণ আমি তো অর্থ সংগ্রহে তাদের কাছে যাই। আমরা সাহায্যের জন্য হাত পাতি—সে কথা আমাকে শুনতে হয়েছে। এখন আর সেই বদনাম থাকবে না। বাংলাদেশের তখনকার আর এখনকার অবস্থান আসমান আর পাতাল।’

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ইচ্ছা করে এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটাতে চাচ্ছে, তা তো নয়। জাতিসংঘ মর্যাদা দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা দিয়েছে। আজ আমি গৌরব বোধ করছি।’

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি মেলার পর গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মুহিত বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো—আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নামমাত্র সুদে আমরা যে অর্থ নিই, সেটি আর পাওয়া যাবে না। আমাদের এখনকার চেয়ে বেশি সুদে বিদেশি ঋণ নিতে হবে।’

‘স্বল্পোন্নত দেশ হতে বাংলাদেশের উত্তরণ’ উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বেশ ফুরফুরে মেজাজে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটাও তো ঠিক যে আমরা পারি। আমরা নিচে ছিলাম। এখন ওপরে উঠছি। আরো ওপরে উঠব। এ জন্যই আমরা আনন্দ উদ্‌যাপন করব। উৎসব করা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য। আমরা উৎসবপ্রিয় জাতি।’

অর্থমন্ত্রী জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সনদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানো হবে। বিকেলে ঢাকার ৯টি পয়েন্ট থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নিয়ে নগরবাসী মিলিত হবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। সেখানে লেজার শো, ফায়ার ওয়ার্কসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এতে অংশ নেবেন। ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় ওয়াটার ফাউন্ডেশন শো, লেজার শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। দুটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

১২-১৬ মার্চ জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ত্রিবার্ষিক সভায় তিনটি শর্ত পূরণ করে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। এই আনন্দ উদ্‌যাপন করতে ২০ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত নানা আয়োজন ও কর্মসূচি পালন করছে সরকার। জাতিসংঘের কাছ থেকে সুপারিশ পাওয়ার পর গতকাল সরকারের তরফ থেকে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করলেন অর্থমন্ত্রী। এতে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শফিকুল আযম ও অতিরিক্ত সচিব মনোয়ার আহমেদও বক্তব্য দেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাবে।

২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা থাকবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এর পর থেকে এ সুবিধা থাকবে না। তখন রপ্তানিতে খরচ বাড়বে। তবে এ জন্য রপ্তানি আয় কমে যাবে বলে আমি মনে করি না। কারণ যেসব দেশ উন্নয়নশীল হয়েছে, তাদের কারোরই রপ্তানি কমেনি। আমাদেরও কমার কোনো কারণ নেই। ২০২৭ সালের মধ্যে আমাদের সক্ষমতাও বাড়বে।’ বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ, নাকি উন্নয়নশীল দেশ—এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন ট্রানজিশনাল পিরিয়ড পার করছি।’

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘অনেকে মনে করেন যে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ করলে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের দু-চারটা দরজা সংকুচিত হবে, অনেক দরজা খুলবে।’

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ঘটনা। বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলডিসি ছিল। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ২০ লাখ কোটি টাকা, যা সব এলডিসির অর্থনীতির ১৬ থেকে ২০ শতাংশ।’


মন্তব্য