kalerkantho


গুলশানে গারো মা-মেয়ে হত্যা

রহস্যের কেন্দ্রে ভাগ্নে সঞ্জিব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুরে মঙ্গলবার বাসায় ঢুকে গারো সম্প্রদায়ের দুই নারীকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সুজাতা চিরান ও তাঁর মা বেসেথ চিরান হত্যায় পারিবারিক ঘনিষ্ঠ কেউ জড়িত বলে মনে করছে পুলিশ। সে ক্ষেত্রে সুজাতার বোন নিরাঞ্জনার ছেলে সঞ্জিব চিরানকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কালাচাঁদপুরের বারিধারা শিশু মালঞ্চ কিন্ডারগার্টেন ও হাই স্কুল সড়কের ভাড়া বাসা থেকে সুজাতা ও তাঁর মা বেসেথের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল সুজাতার স্বামী আশীষ মানকিন বাদী হয়ে গুলশান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, সন্দেহভাজন কাউকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অনেককে। নিহত সুজাতার মেয়ের জামাই পেলেস্তার প্রথম বাসায় ঢুকে লাশ দেখেন। পুলিশ তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে। স্বজন ও প্রতিবেশীদের বক্তব্য জেনেছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সুজাতাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করা হলেও প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকারীদের অস্ত্রের ব্যাপারে তথ্য মিলছিল না। তবে মঙ্গলবার গভীর রাতে তল্লাশি করে রান্নাঘরের জিনিসপত্রের সঙ্গে দুটি ছুরি পায় পুলিশ। গৃহকর্তা আশীষ মানকিনসহ বাসার অন্যদের ছুরি দুটি দেখালে তারা সেগুলো আগে দেখেনি বলে জানিয়েছে। হত্যার পর ছুরিগুলো ধুয়ে ঘাতকরা রেখে যায় বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন। এ আলামত থেকে হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

গতকাল গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘কিছু আলামত ও তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। নিহতের মেয়ে মায়াবীর স্বামীর সহায়তা নেওয়ার জন্য তাঁকে থানায় আনা হয়েছে, আটক নয়। শিগগিরই সব বিষয় জানা যাবে।’

স্বজনরা জানায়, সুজাতার বড় মেয়ে মায়াবী ঘটনার আগে খালাতো ভাই সঞ্জিবকে তিন বন্ধুসহ এ বাসায় ঢুকতে দেখেছেন। তাদের নাশতা দিয়ে মায়াবী কাজে বের হয়ে গেলেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ সময় মায়াবীর এক বছর বয়সী মেয়ে একুশি ঘরটিতে ছিল। ঘটনার পর সুজাতার লাশের পাশেই একুশিকে পাওয়া যায়। সন্দেহভাজন সঞ্জিবের বয়স অনুমানিক ২০ বছর। তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে। বিয়ে করেছেন শেরপুরে। দেড় বছর আগে তিনি সুজাতার বাসায় থাকতেন। দীর্ঘদিন পর গতকাল তিন বন্ধুসহ বাসাটিতে আসেন। এদিকে কয়েক দিন ধরে সুজাতাদের বাসায় একটি ‘সম্পর্ক’ নিয়ে ঝগড়া চলছিল বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছে। সোমবার রাতে তুমুল ঝগড়ার পর সুজাতাকে স্বামী ঘর থেকে বের করে দেন বলেও জানায় এক প্রতিবেশী।

সুজাতার বড় মেয়ে মায়াবী বলেন, ‘সঞ্জিব বেড়াতে আসে। সঙ্গে তিনজন ছিল। ওদের চিনি না। ওদের নাশতা দিয়ে মায়ের কাছে শিশু একুশিকে রেখে কাজে যাই। সন্ধ্যায় পেলেস্তার বাসায় ফিরে দরজা বাইরে থেকে ছিটকানি লাগানো দেখেন। ভেতরে ঢুকে লাশ ও একুশিকে পাশে খেলতে দেখেন।’

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাউদ্দিন বলেন, সুজাতাকে যে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে সেটি পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটি তাত্ক্ষণিকভাবে হয়েছে, এমনটা এখনই বলা যাবে না। আসামি গ্রেপ্তার হলেই রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।



মন্তব্য