kalerkantho


নির্বাচন কবে, সিদ্ধান্ত হতে পারে আজ

গাজীপুর সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তোড়জোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে আজ সোমবার নির্বাচন কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত হতে পারে। সভায় নির্বাচন কমিশনাররা সবাই একমত হলে আজই ঘোষিত হতে পারে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল— এমন জল্পনা-কল্পনাও রয়েছে।

সে কারণে সরগরম হয়ে উঠেছে গাজীপুর মহানগর। আগ্রহী মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। নগরজুড়ে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তোড়জোড়। পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে অলিগলি। অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠেও নেমে পড়েছেন।

জানা গেছে, আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিতে হয়। এ হিসাবে ৮ মার্চ থেকে আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন। আগামী মের মাঝামাঝি শুরু হচ্ছে রোজা। জুনে ঈদুল ফিতর। জাতীয় নির্বাচন ও ঈদের কথা বিবেচনা করে রমজান শুরুর আগেই গাজীপুর সিটিতে ভোট গ্রহণের চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। সে ক্ষেত্রে ভোট গ্রহণ হতে পারে ৫ মে বলে জেলার নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

নগর ঘুরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৩ সালের প্রথম নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিএনপিরর প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. আজমতউল্লা খান। এবার জয় পেতে মরিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ জন্য প্রার্থী পরিবর্তনের কথাও ভাবছে দলীয় হাইকমান্ড।

আসন্ন নির্বাচনে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গতবারের প্রার্থী মো. আজমতউল্লা খান, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো. কামরুল আহসান সরকার রাসেল সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন।

আজমতউল্লা খান বলেন, সব দিক বিবেচনা করে দলের নেত্রী তাঁকে আবার মনোনয়ন দেবেন বলে তিনি আশা করেন।

জাহাঙ্গীর আলম দলীয় সভানেত্রীর সবুজসংকেত পেয়েছেন দাবি করে বলেন, তিনি নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিয়েছেন। মাঠ গোছানো এবং নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। শেষ করেছেন ‘ভোটকেন্দ্র কমিটি’।

তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর মাঠে তৎপরতা নেই। বর্তমান মেয়র এম এ মান্নান দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার কারণে এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ। কোনো কারণে বা শারীরিক অসুস্থতায় তিনি মনোনয়ন না পেলে কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য হাসান উদ্দিন সরকারকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

মান্নান বলেন, দল তাঁকে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন। হাসান উদ্দিন সরকারও একই কথা বলেছেন।

জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য কোনো প্রার্থীর তৎপরতা নেই। জামায়াতে ইসলামী মেয়র পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। দলীয়ভাবে নির্বাচনের সুযোগ না থাকায় ‘গাজীপুর মহানগর উন্নয়ন ফোরাম’ নামের ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের কথা ভাবছে তারা। এরই মধ্যে দোয়া ও সমর্থন চেয়ে মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহর অসংখ্য পোস্টার লাগানো হয়েছে।

জাসদ (ইনু) থেকে প্রার্থী হচ্ছেন দলের গাজীপুর মহানগর সভাপতি রাশেদুল হাসান রানা। ইতিমধ্যে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তরুণ এ নেতার পোস্টার ও ব্যানার লাগানো হয়েছে।

মেয়র প্রার্থীর বাইরে নগরীর ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে এবার বিপুলসংখ্যক আগ্রহী প্রার্থী প্রচার চালাচ্ছেন। গড়ে প্রতি ওয়ার্ডে ১০-১২ জন প্রচারে আছেন, যাঁদের বেশির ভাগই নতুন এবং আওয়ামী লীগ দলীয়। প্রার্থিতা ও মনোনয়ন নিয়ে অনেক ওয়ার্ডে দলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।


মন্তব্য