kalerkantho


ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়া এএসআই প্রত্যাহার

বরিশাল অফিস   

১৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মাদক মামলার আসামির মায়ের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার পর জানাজানি হওয়ায় টাকা ফেরত দেওয়া পুলিশের সেই সহকারী উপপরিদর্শককে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর গতকাল রবিবার তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত এই এএসআই উজিরপুর মডেল থানার কর্মরত ছিলেন। তাঁর নাম আমিনুল ইসলাম। তাঁকে প্রত্যাহার করে বরিশাল পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার বলেন, আমিনুলের বিরুদ্ধে বিকাশের মাধ্যমে মামলার আসামির মায়ের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই তাঁকে প্রাথমিকভাবে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ‘উজিরপুরে উেকাচ নিয়ে ফেরত দিলেন এএসআই’ শিরোনামে গতকাল কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।

উজিরপুর মডেল থানা সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে উজিরপুর উপজেলার মুণ্ডপাশা গ্রামের শামীম খানকে (৩০) শিকারপুর এলাকায় ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করেন এএসআই আমিনুল। ওই দিন রাতে শামীমের মা রেবা বেগমকে ফোন করে তিনি ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে বলেছিলেন, তাঁর ছেলের ১৪ বছর সাজা হয়ে যাবে, টাকা দিলে মামলা থেকে বাঁচবে। কিন্তু রেবা বেগম তাঁর কাছে এত টাকা নাই জানান। তখন এএসআই আমিনুল তাঁকে বলেন, ৫০টির জায়গায় ১১টি ইয়াবা দেখিয়ে শামীমকে আদালতে সোপর্দ করলে তাঁর সাজা কম হবে। এর জন্য তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে।

এএসআই আমিনুলের দাবি অনুযায়ী তাঁর ব্যক্তিগত ফোন নম্বরের বিকাশ হিসাবে পাঁচ হাজার টাকা পাঠান রেবা বেগম। ঘুষ নেওয়ার এই বিষয়টি জানাজানি হলে আমিনুল শুক্রবার সাড়ে ৮টার দিকে রেবা বেগমকে টাকা ফেরত দেন।

শনিবার ঘটনাটি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় বরিশাল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল হাসনাতকে। তিনি গতকাল সকালে পুলিশ সুপারের কাছে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দেন। এর ভিত্তিতে এএসআই আমিনুলকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।



মন্তব্য