kalerkantho


কমলনগর রক্ষায় প্রয়োজন আরো আট কিলোমিটার বাঁধ

কাজল কায়েস, লক্ষ্মীপুর   

১৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আরো আট কিলোমিটার মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রয়োজন। এ বাঁধের প্রথম পর্যায়ের এক কিলোমিটারের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। দ্রুত দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হলে নির্মাণ করা অংশও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কে দিন পার করছে এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানায়, দুই যুগ ধরে ভয়াবহ ভাঙনে কমলনগরের অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ বিশাল জনপদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সারা বছর কম-বেশি ভাঙন থাকে। বর্ষায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবির মুখে এক কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ শেষের দিকে। আরো আট কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন। তা না হলে আগামী বর্ষায় নির্মাণাধীন বাঁধসহ কমলনগর নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

সরেজমিনে মাতাব্বরহাট বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত এক কিলোমিটার বাঁধের কাজ চলছে। আশপাশের এলাকা তখনো ভাঙছে। সম্প্রতি ভাঙন বাঁধের কাছাকাছি চলে এসেছে। এতে হুমকির মধ্যে রয়েছে ওই বাঁধ। এ পরিস্থিতিতে ওই এক কিলোমিটারের সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হলে কমলনগর রক্ষার উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে।

কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাঙনের শিকার সাইফুদ্দিন আজম বলেন, ‘মূল ডিপিপিতে ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে কমলনগরে দ্বিতীয় পর্যায়ের সাড়ে আট কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের নির্দেশনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে এর কাজ শুরু হয়নি। দ্রুত কাজ শুরু না করা হলে নির্মাণাধীন বাঁধও ধীরে ধীরে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।’

তীর রক্ষা বাঁধের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এজিএম মাসুদ রানা বলেন, ‘নির্ধারিত বাঁধের ৯৩০ মিটারের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। গত বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও তীব্র জোয়ারের কারণে শতভাগ কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। অবশিষ্ট কাজ শিগগিরই শেষ হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘দ্বিতীয় পর্যায়ের আট কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়নের জন্য লক্ষ্মীপুর পাউবো মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় নদীর ভাঙন প্রতিরোধে ১৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এতে রামগতির আলেকজান্ডারে সাড়ে তিন কিলোমিটার, রামগতিরহাট মাছঘাট এলাকায় এক কিলোমিটার ও কমলনগরের মাতাব্বরহাট এলাকায় এক কিলোমিটার তীর রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের কথা। ২০১৫ সালে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন আলেকজান্ডার এলাকায় সাড়ে তিন কিলোমিটার বাঁধ বাস্তবায়ন করে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কমলনগরে বাঁধ নির্মাণের দাবি থাকলে তা করা হয়নি।



মন্তব্য