kalerkantho


উন্নয়নশীল হওয়ার সূচক অর্জন

বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারকে অভিনন্দন জাতিসংঘের

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল জাতিসংঘ। জাতিসংঘের উন্নয়ননীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) গতকাল শনিবার ভোরে (নিউ ইয়র্ক সময় গত শুক্রবার বিকেলে) বাংলাদেশের প্রতিনিধির কাছে এসংক্রান্ত চিঠি হস্তান্তর করেন।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের কাছে ওই চিঠি হস্তান্তর করেন সিডিপি সচিবালয়ের প্রধান রোলান্ড মোলেরাস। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে সব বক্তাই এই অর্জনে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারকে অভিনন্দন জানান। তাঁরা এই অর্জনের পেছনে বাংলাদেশের বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ধারাবাহিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। বক্তারা এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে সদ্য উত্তীর্ণ দেশগুলোকে তাদের টেকসই উত্তরণ টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন গতকাল সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সিডিপি গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্বল্পোন্নত দেশ (লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রি-এলডিসি) ক্যাটাগরি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনসংক্রান্ত ঘোষণা দেয়। সে অনুযায়ীই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে ওই চিঠি হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থায়ী মিশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিডিপি বিশেষজ্ঞ গ্রুপের সভাপতি অধ্যাপক হোসে অ্যান্তোনিও ওকাম্পো, জাতিসংঘের এলডিসি, ভূবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ (এলএলডিসি) ও উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলো (সিডস)-সংক্রান্ত কার্যালয়ের উচ্চতম প্রতিনিধি আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল ফেকিতামইলোয়া কাতোয়া উটইকামানু, জাতিসংঘে বেলজিয়ামের স্থায়ী প্রতিনিধি মার্ক পিস্টিন, তুরস্কের স্থায়ী প্রতিনিধি ফেরিদুন হাদী সিনিরলিওলু, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক ও জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব হাওলিয়াং ঝু এবং ইউএনডিপির মানবিক উন্নয়ন প্রতিবেদন বিষয়ক কার্যালয়ের পরিচালক ড. সেলিম জাহান।

এ ছাড়া বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তারা এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কর্মরত বাংলাদেশের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্বল্পোন্নত কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারাও ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ওপর একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণে বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাহসী ও অগ্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর ও উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে আমাদের দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছে।’

চিঠি হস্তান্তরের পর সিডিপি সচিবালয়ের প্রধান রোলান্ড মোলেরাস বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সামাজিক খাতগুলোর ব্যাপক উন্নয়ন এই উত্তরণের ক্ষেত্রে কমিটির সুপারিশ প্রদানকে সহজতর করেছে।

সিডিপি বিশেষজ্ঞ গ্রুপের সভাপতি অধ্যাপক হোসে অ্যান্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশের সাফল্যমণ্ডিত উন্নয়নের ইতিহাস রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বাংলাদেশের গতিশীল রপ্তানি খাত, মানবিক সম্পদ এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যাপক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জাতিসংঘের এলডিসি, এলএলডিসি ও সিডস-সংক্রান্ত কার্যালয়ের উচ্চতম প্রতিনিধি আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল উটইকামানু বলেন, ‘দারিদ্র্য হ্রাস ও উন্নয়নের অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে। শতকার ১৪ ভাগের নিচে নেমে এসেছে অতিদারিদ্র্যসীমা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেক বছর ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। রূপকল্প-২০২১ নিরবচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোকে পরিচালিত করছে।’

জাতিসংঘে বেলজিয়ামের স্থায়ী প্রতিনিধি মার্ক পিস্টিন, তুরস্কের স্থায়ী প্রতিনিধি সিনিরলিওলু, ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক ও জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব হাওলিয়াং ঝুও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।



মন্তব্য