kalerkantho


রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা

যত ক্ষমতাধরই হোক বিচার হতেই হবে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের হোতারা যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার (বিশেষ দূত) ইয়াংহি লি ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনে মিয়ানমারবিষয়ক আলোচনায় তাঁরা এ দাবি জানান।

ইয়াংহি লি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের মধ্যে গণহত্যার আলামত থাকার বিষয়ে তাঁর শঙ্কা আরো জোরালো হয়েছে। মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, তদন্ত ও বিশ্লেষণের জন্য কক্সবাজারে তিন বছর মেয়াদে জাতিসংঘের কার্যালয় খোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আদালতে উপস্থাপন করা যায়—এমনভাবেই সাক্ষ্য সংগ্রহ করতে হবে।

অন্যদিকে মারজুকি দারুসমা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা, নিপীড়ন, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ঠেকাতে মিয়ানমার উদ্যোগ নিয়েছিল—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মিয়ানমার মাত্র কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। এটি ন্যূনতম মাত্রার চেয়েও অনেক কম। যত ক্ষমতাধর জেনারেলই হোক না কেন, তাদের বিচার হতেই হবে।

আলোচনা পর্বে পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলোর মধ্যে অবস্থানগত পার্থক্য ছিল স্পষ্ট। চীন রোহিঙ্গা সংকটকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছে, জাতিসংঘের টাকায় এ বিষয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন পরিচালনা করা অর্থ অপচয়ের আরেকটি উদাহরণ।

মিয়ানমারের প্রতিনিধি আবারও জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গ্রামের ওপর বুলডোজার চালানোর বিষয়ে তাঁর দাবি, রোহিঙ্গাদের জন্য অবকাঠামো নির্মাণের স্বার্থেই এটি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর বেশির ভাগই ইয়াংহি লি ও মারজুকি দারুসমার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে মিয়ানমার পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।

ইয়াংহি লি জোর দিয়েই বলেছেন, তিনি কোনো পক্ষপাতিত্ব করেননি, বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজের অংশ হিসেবে মিয়ানমার তার দেশ থেকে বেশির ভাগ রোহিঙ্গাকে বের করে দিয়েছে। প্রতিটি নিপীড়নের উদ্দেশ্য ছিল মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন। ছোট ছোট শিশুকে আগুনে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের দিকে আরো দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান।

মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন পরিষদ গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমা বলেছেন, তিনি ও তাঁর মিশনের সদস্যরা ছয় শরও বেশি রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছেন। মিয়ানমার তাদের কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধ। মিয়ানমার সত্যকে আড়াল করে মিথ্যা ও অপপ্রচারকেই উৎসাহিত করছে।

মারজুকি দারুসমা বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরে যাওয়া ঠিক হবে না। রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত কোনো সমাধান আসবে না।

 



মন্তব্য