kalerkantho


ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাইবান্ধা-১ আসনে উপনির্বাচন আজ

সুন্দরগঞ্জে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ উপনির্বাচন আজ মঙ্গলবার। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন উপলক্ষে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যাপ্তসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তারা নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে।

এ উপনির্বাচনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আফরুজা বারী (নৌকা), জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (লাঙল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) জিয়া জামান খান (আম) ও গণফ্রন্টের শরিফুল ইসলাম (মাছ)।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের জন্য দুই হাজার ৫০ জন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সুন্দরগঞ্জ আসনে মোট ১০৯টি ভোটকেন্দ্র। বুথ রয়েছে ৬৪৭টি।  এতে ১০৯ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৬৪৭ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং এক হাজার ২৯৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা তিন লাখ ৩৮ হাজার ৫৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৬৪ হাজার ৯৩৪ জন এবং মহিলা এক লাখ ৭৩ হাজার ৬২২ জন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘নির্বাচন শতভাগ সুষুমভাবে অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা  গ্রহণ করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য এক হাজার ৭৬০ জন পুলিশ, আট প্লাটুন  বিজিবি, র‌্যাবের ৪০টি টিম ও ৮৭২ জন আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের পর অনুষ্ঠিত প্রথম উপনির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহমেদ এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা আহমেদ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ফলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী গত ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

র‌্যাব-১৩ রংপুরের উইং কমান্ডার আব্দুল আহাদ বলেছেন, সুন্দরগঞ্জের উপনির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে র‌্যাবের ৪০টি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করবে। নির্বাচন ঘিরে রবিবার থেকে র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা নির্বাচনের পরদিনও থাকবে। এর পরও যদি প্রয়োজন হয় তাহলেও র‌্যাব প্রস্তুত আছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরের গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের মেসার্স এ খলিল ফিলিং স্টেশনের সামনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান আব্দুল আহাদ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আব্দুল আহাদ বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা সজাগ আছি। আমরা কাউকে কোনো ছাড় দেব না। সাদা পোশাকেও বিভিন্ন জায়গায় আমাদের র‌্যাব সদস্যরা থাকবে। সুন্দরগঞ্জে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যদি এমন কিছু হয়, আমরা তা দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করব। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর ওপর আমাদের অতিরিক্ত নজরদারি আছে। প্রেস ব্রিফিংকালে রংপুর ও গাইবান্ধা র‌্যাব ক্যাম্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য