kalerkantho


সু চির পুরস্কার ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের অপরাধের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শুরু

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সু চির পুরস্কার ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন দমনে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় সে দেশের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির আরো একটি পুরস্কার প্রত্যাহার করা হলো। এবার নোবেলজয়ী সু চিকে দেওয়া সম্মানসূচক মানবাধিকার পদক ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্রের হলোকস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম।

মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ গত বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, অং সান সু চি নিজ দেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক হামলা থামাতে ও নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে ইতিপূর্বে দেওয়া পুরস্কার বাতিল করা হয়েছে। হলোকস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম সর্বোচ্চ ‘এলি ভিজেল পুরস্কারটি’ সু চিকে দিয়েছিল ২০১২ সালে।

এদিকে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের ভয়াবহ নির্যাতন-নিপীড়নের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসেছে।

এ ছাড়া গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ উপদেষ্টা আদামা ডিয়েং আজ শুক্রবার কক্সবাজার যাচ্ছেন। নোবেল বিজয়ী বিশিষ্ট ব্যক্তিরাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করার পর রোহিঙ্গা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনি এ সফর করছেন। সু চির পুরস্কার প্রত্যাহার : হলোকস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ সু চিকে পাঠানো চিঠিতে লিখেছে, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে পুরস্কার বাতিলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমরা সাধারণত এমন সিদ্ধান্ত নিই না।’

চিঠিতে মিউজিয়ামের পরিচালক সারা ব্লুমফিল্ড বলেছেন, ‘নিরপেক্ষতা সব সময় নির্যাতিতের বিপক্ষে যায়। নীরবতা কখনো নিপীড়িতকে নয়, বরং নিপীড়ককে উৎসাহ জোগায়।’

চিঠিটি যুক্তরাষ্ট্রে মিয়ানমার দূতাবাসের কাছে পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমার দূতাবাস বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, হলোকস্ট মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে তারাও দুঃখ পেয়েছে। মিয়ানমার দূতাবাস মনে করে, বাস্তব ঘটনা না জেনে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে সু চির পুরস্কার বাতিল করা হয়েছে। তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শুরু : বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ডকুমেন্টেশন টিমের সফর সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রতিনিধিদলটি রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে তাদের ওপর সংঘটিত নির্যাতন-নিপীড়নের বর্ণনা শুনবে এবং তা লিপিবদ্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এর হোতা মিয়ানমারের এক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের যে মাত্রা তা আন্তর্জাতিক ‘গণহত্যা’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে তা আগামী দিনগুলোতে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ ও নিপীড়নকারীদের বিচারের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ উপদেষ্টা আদামা ডিয়েং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের মাত্রা গণহত্যা কি না তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ সফর করছেন। আজ থেকে তিন দিন তিনি কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে রাখাইনে তাদের ওপর নিপীড়নের মাত্রা সম্পর্কে জানবেন। সফর শেষে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেবেন।

 


মন্তব্য