kalerkantho


ডিআরইউর আলোচনাসভায় স্পিকার

নারী ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল নজির গণমাধ্যমে তাদের উপস্থিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, এ দেশের নারীরা নির্ভীকতা, সাহসিকতা ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নারী সাংবাদিকরা আরো এগিয়ে। নারী সাংবাদিকদের দৃশ্যমান উপস্থিতি প্রমাণ করে, বাংলাদেশ এখন নারীর ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘গণমাধ্যমে নারী ও কর্মপরিবেশ’ শীর্ষক আলোচনাসভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বত্তৃদ্ধতায় ড. শিরীন শারমিন এমপি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতা পেশায় বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন ও ডিআরইউর সাবেক সহসভাপতি মাহমুদা চৌধুরীকে সম্মাননা জানানো হয়। ডিআরইউ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বত্তৃদ্ধতা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, নারীবিষয়ক সম্পাদক ঝর্ণা মনি, নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী, ডিইউজের কোষাধ্যক্ষ উম্মুল ওয়ারা সুইটি, নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভির আঙ্গুর নাহার মন্টি, নাগরিক টিভির শাহনাজ শারমীন, এটিএন বাংলার নাদিরা কিরণ, বাসসের শাহানা শিউলি, সুমি খান, জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্পিকার বলেন, কর্মস্থলে প্রতিকূল পরিবেশ থাকবে—তার পরও নারীদের তাদের অবস্থান থেকে সরে আসা চলবে না। নারীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হতে হবে, নারীদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং এ এগিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকতা একটি কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং পেশা। এ পেশায় টিকে থাকতে তাদের অনেক সংগ্রাম করতে হয়। সে জন্য নারীদের জন্য উত্তম কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের নীতিনির্ধারনী পর্যায়ে আসীন করতে হবে; যাতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সমসুযোগ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়।

স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে নারীবান্ধব আইন ও নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে নারীদের অগ্রযাত্রায় পেছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাদের পথচলাকে সহজ করে নিতে হবে। তাদের নিজের মধ্যে যে শঙ্কা রয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, শুধু নারী দিবসের কর্মসূচিতেই নারীদের নিয়ে আলোচনা করলে চলবে না। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের উন্নয়ন করতে হবে সে ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং তার সমাধানে পথনির্দেশনা দিতে হবে। তবেই নারীর প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ‘যখন রিপোর্টার হিসেবে কাজ শুরু করি, আমাকে আলাদা রুম দিয়ে বলা হলো সেখান থেকে কাজ করে যেন জমা দিই। আমি সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছি, বলেছি সব রিপোর্টার যেখানে কাজ করে একজন রিপোর্টার হিসেবে আমিও সেখানে বসেই কাজ করব। এভাবে অধিকার আদায় করেছি।’ পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে কোনো বাধাই বাধা নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্মাননাপ্রাপ্ত সিনিয়র সাংবাদিক মাহমুদা চৌধুরী বলেন, ‘রিপোর্টিং শুরুর সময় অনেক পুরুষ সহকর্মীর সহযোগিতা পেয়েছি। কিন্তু অফিস ব্যবস্থাপনার কিছু কিছু মন বিষিয়ে উঠত। তার পরও দাঁতে দাঁত চেপে রেখে সহ্য করেছি।’ মূল প্রবন্ধে ঝর্ণা মনি জানান, দেশের গণমাধ্যমে এখন মাত্র ১৬ শতাংশ নারী কাজ করছেন, তবে এ হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে।



মন্তব্য