kalerkantho


ওবায়দুল কাদের বললেন

সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদদ দিলে জনগণ ব্যালটে জবাব দেবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে মদদদান অব্যাহত রাখলে আগামী নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তার সমুচিত জবাব দেবে। উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদদ না দেওয়ার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা সাম্প্রদায়িক শক্তির পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করুন। এসব করে ২০১৪ সালের ভুলের পুনরাবৃত্তি করবেন না।’

গতকাল রবিবার বিকেলে নগর ভবনে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা সফল করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেশের কিছু মিডিয়া একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নয়। কিছু গণমাধ্যম সরকারপ্রধানকে ভালোভাবে কাভারেজ দিচ্ছে না। তার পরও আমরা কিছু বলছি না। আমরা মিডিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে চাই না। সম্প্রতি খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটে অনেক বড় বড় সমাবেশ হয়েছে। কিন্তু কোনো কোনো মিডিয়া সত্যকে বিকৃত করে সাদামাটাভাবে তা প্রচার করছে। তারা কারা আমরা জানি।’

শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলারীদের সরকার আড়াল করতে চায়, বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, হামলাকারীর স্বরূপ উন্মোচন হয়ে গেছে। হামলাকারীরা সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কিলিং গ্রুপের সদস্য। মির্জা ফখরুলকে লক্ষ্য করে তিনি আরো বলেন, কী আড়াল হয়েছে? ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে ড. জাফর ইকবালকে ঢাকায় এনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী মনিটর করছেন। এমনকি তিনি জাফর ইকবালকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন। মায়ের থেকে ফখরুল সাহেব আপনার দরদ বেশি তা বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।

সেতুমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান বলেছিলেন ৭ মার্চ স্বাধীনতার গ্রিন সিগন্যাল। অথচ তাঁর দল বিএনপি এই দিনটিকে অস্বীকার করে। ৭ মার্চের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পরও এই দিনটিকে গুরুত্বহীন করে রাখতে চায় তারা। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম ছুটির দিন ছাড়া কোনো কর্মসূচি করব না। ইতিপূর্বে তা বাস্তবায়নও হয়েছে। ৭ মার্চের জনসভাকে কেন্দ্র করে কিছু গণমাধ্যম নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন করছে। ৭ মার্চ, ১৫ আগস্ট, ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ ছাড়া অন্য কোনো দিন পালন করার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের জনভোগান্তি এড়ানোর পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাস্তা বন্ধ করে মিছিল করা যাবে না। রাস্তার এক পাশ খোলা রাখতে হবে যানবাহন চলাচলের জন্য। সমাবেশের জন্য মার্কেট ও অফিস বন্ধের দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলেও জানান তিনি।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ৭ মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার জন্য এক হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন। ধুলোবালি ঠেকাতে পানি আর মশার উপদ্রব বন্ধে ওষুধ ছিটানো হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যে মাঠ প্রস্তুত হয়ে যাবে।

ডিএসসিসি মেয়রের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।


মন্তব্য