kalerkantho


শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশে ইয়াসমিন হক

অসম্ভব সৌভাগ্যবান বলেই জাফর ইকবাল বেঁচে গেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



অসম্ভব সৌভাগ্যবান বলেই জাফর ইকবাল বেঁচে গেছেন

গতকাল বিকেলে শাহবাগে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে অসম্ভব সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেছেন, জাফর ইকবাল অসম্ভব সৌভাগ্যবান। সবার দোয়া আছে বলেই তিনি বেঁচে গেছেন। ভাবুন, যারা বাঁচেনি, তাদের কী অবস্থা। এমন ঘটনা ঘটেছে, যা ঘটা উচিত ছিল না। গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

ইয়াসমিন হক বলেন, ‘মুহম্মদ জাফর ইকবাল দুই শ বই লিখেছেন; তার একটিতেও ইসলামবিরোধী কথা নেই। যদি ওই ছেলেটি জাফর ইকবালের একটি বইও পড়ত, তাহলে সে এমন কাজ করত না।’

ইয়াসমিন হক আরো বলেন, ‘ওই ছেলেকে ভুল বোঝানো হয়েছে। এখনো ওই পর্যায়ের শিক্ষার্থী আছে যারা হতাশাগ্রস্ত, যাদের ভুল বোঝাতে পারে, এ রকম অনেকেই আছে। তাদের পড়তে হবে, বুঝতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমরা সবাই বাঙালি ছিলাম, কোনো ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক বিষয় ছিল না। আমাদের সেক্যুলার দেশ। এত বছর তাহলে বাচ্চাদের আমরা কী শিখিয়ে আসছি?’

জাফর ইকবালের শারীরিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে ইয়াসমিন হক বলেন, ‘চিকিৎসকরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। আমার বাবা আর্মির ডাক্তার ছিলেন। সিএমএইচে ড. ইকবালকে কাল সকালে প্রথম পাঁচ মিনিটের জন্য দেখা করতে দিয়েছিলেন। যেদিন এখানে নিয়ে আসা হলো, প্রথমে আইসিইউতে নিয়ে সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। আমি বারবার আত্মীয়দের নিষেধ করেছি হাসপাতালে যেতে। আমাদের জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ২৪ ঘণ্টা কেউ ঢুকবে না। আমি চিকিৎসকের মেয়ে। আমি জানি। জাফর ইকবাল সুস্থ এবং তাঁর জ্ঞান ছিল; তাই আমিও যাইনি। হাসপাতালে যাঁরা দেখতে গেছেন, তাঁরা যদি দেখেন আমিই ঢুকছি না, তাহলে কেউই ঢুকতে চাইবেন না। আমি যখন গতকাল সকালে পাঁচ মিনিটের জন্য ঢুকেছিলাম তখন জাফর ইকবাল জানতে চেয়েছিলেন, তিনি এখানে কেন? এই সিদ্ধান্ত কে নিয়েছে। আমি তাঁকে জানাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়েছেন। এত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি খবর নিয়েছেন।’

অধ্যাপক ইয়াসমিন হক জানান, ‘সবাই অসম্ভব সহযোগিতা করেছে। আগামী ছয় দিন সম্ভবত সিএমএইচেই জাফর ইকবালকে রাখা হবে। আমি চিকিৎসকদের বলেছি, যত দিন রাখার দরকার রাখেন, ওর রেস্ট হবে। যাতে তাড়াতাড়ি ভালো হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ফিরে গেলেই সে খুশি হবে। জাফর ইকবাল সব সময় পুলিশকে বলতেন, ছাত্রদের কাছে আসতে দাও। হয়তো এরপর তিনি সতর্ক হবেন। আমরা ক্যাম্পাসে থাকি, যার যেটা কাজ, করে যাব। পুরো দেশের বাচ্চাদের ভালোবাসা কিভাবে ফেরত দেব, জানি না।’

ইয়াসমিন হক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘গত দুদিন বাইরে কী ঘটেছে, সে সম্পর্কে জাফর ইকবালের কোনো ধারণাই নেই। তিনি কিন্তু কিছুই জানেন না, কী ঘটছে বাইরে। প্রধানমন্ত্রীর কাছেই যেটুকু শুনেছেন। আপনারা সবাই জানতেন, জাফর ইকবালের প্রতি হুমকি আছে। শাহজালালের শিক্ষার্থী ও ছোট বাচ্চা সারা দেশে যারা আছে, তোমরা তো জানো বিষয়টা। জাফর ইকবাল অসম্ভব সৌভাগ্যবান। সবার দোয়া আছে বলেই তিনি বেঁচে গেছেন।’ সরকারের কাছে কিছু চাওয়ার নেই উল্লেখ করে ইয়াসমিন হক আরো বলেন, ‘যা করার তার চেয়ে বেশি করেছে, এখনো করছে। পরিবার আর কী চাইবে?’

 


মন্তব্য