kalerkantho


আক্রান্ত জাফর ইকবাল

বিচারের দাবিতে সোচ্চার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জনপ্রিয় শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা হামলায় জড়িত ও নেপথ্যের ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জঙ্গিবাদ নির্মূলের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

গতকাল সোমবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতি, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

এসব কর্মসূচিতে বলা হয়েছে, জাফর ইকবালের ওপর এই হামলা বাংলাদেশের ওপর আঘাত। এ আঘাত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্যই করা হয়েছে। যেকোনো মূল্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জাফর ইকবালের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে।

এ ছাড়া শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, নাট্য সংগঠন দিক থিয়েটার পথনাটকসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। সিলেট নগরে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মানববন্ধন পালিত হয়েছে। খুলনায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনের সামনে থেকে মৌন মিছিল বের করে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (সিএসই), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং (এসডাব্লিউই) বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করেন। এ সময় তাঁরা প্রশাসনিক ভবন-২-এর সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে যোগ দেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। অবস্থান কর্মসূচি শেষে শিক্ষকরা সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে করেন।

এ ছাড়া বিকেল সাড়ে ৪টায় নাট্য সংগঠন দিক থিয়েটার পথনাটক, সন্ধ্যা ৬টায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট লাল ব্যাজ ধারণ ও আলোর মিছিল করে। সাড়ে ৭টায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে।

বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। বক্তারা হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই।

একই সময়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করে গণজাগরণ মঞ্চ সিলেট। একাত্মতা জানায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, নগরনাট সিলেট, মৃত্তিকায় মহাকাল, থিয়েটার মুরারিচাঁদ ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন শিকড়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেছেন, হামলায় জড়িতদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেছেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে পরামর্শ করে মুক্তিযুদ্ধ, সৃজনশীলতার পক্ষের শিক্ষকদের নিরাপত্তা বাড়ানো প্রয়োজন। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন আহম্মদ শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার বিষয়ে তাগিদ দেন। সমিতির সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম বলেছেন, এ হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের হাদী চত্বরে মানববন্ধন করে। এতে সংহতি প্রকাশ করেন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বার বাংলা চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ড. সোবহান মিয়া।

(শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, খুলনা ও সিলেট অফিসের পাঠানো তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি)


মন্তব্য