kalerkantho


কচুয়ায় উল্লাস, তাদের সন্তান বিপ্লব ত্রিপুরার হবু মুখ্যমন্ত্রী!

ফারুক আহম্মদ, চাঁদপুর   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



কচুয়ায় উল্লাস, তাদের সন্তান বিপ্লব ত্রিপুরার হবু মুখ্যমন্ত্রী!

গ্রামের সন্তান বিপ্লব কুমার দেব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন এ খবরে চাঁদপুরের স্বজনরা মিষ্টিমুখ করছেন। ইনসেটে বিপ্লব কুমার দেব। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন চাঁদপুরের কচুয়ার কৃতী সন্তান বিপ্লব কুমার দেব। এ খবরে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মেঘদাইর গ্রামের মানুষ উল্লসিত। খুশি কচুয়ার সাধারণ মানুষও।

গতকাল সোমবার বিপ্লব দেবের পূর্বপুরুষের বাড়িতে গেলে বিপ্লবের কাকা বৃদ্ধ মধুসূদন দেব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিপ্লব আমাদের গর্বের ধন। তার কারণে অনেকেই আমাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। কেউ কেউ মিষ্টি নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসছেন। তা ছাড়া বাড়ির মন্দিরে বিপ্লবের শুভকামনা করে পুজো দিচ্ছেন স্বজনরা।’ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইউব আলী পাটোয়ারী বলেন, ‘বিপ্লব দেব আমাদের গৌরব ও অহংকার। কারণ তার পূর্বপুরুষ এই দেশের নাগরিক ছিলেন।’

ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে বিজেপি অভাবনীয় জয় পেয়েছে। তিনি রাজ্য বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দুই বছরের মধ্যেই দলটিকে ঐতিহাসিক বিজয় এনে দেন। বিপ্ল্লব নিজেও একটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। আগামীকাল বুধবার ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বিজেপি কেন্দ্রীয় কমিটি।

এলাকাবাসী জানায়, স্বাধীনতার অনেক আগে বিপ্লব কুমার দেবের দাদা গৌবিন্দ কুমার দেব ইউপি সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁদের বাড়ি পাকিস্তানিরা পুড়িয়ে দেয়। এ সময় বিপ্লব কুমার দেবের বাবা হিরোধব দেব কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হন। স্ত্রী মিনা রানী দেব তখন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। জীবন বাঁচাতে তিন মেয়ে নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ত্রিপুরার বনমালীপুরে চলে যান। সেখানেই জন্ম বিপ্লব কুমারের। পরিবারটির আর দেশে ফেরা হয়নি। বড় হয়ে বিপ্লব বেশ কয়েকবার মনসাপূজা দেখতে কচুয়ায় এসেছেন বলে জানা যায়।

সর্বশেষ বিপ্লব দেব গত বছর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে বিজেপির প্রতিনিধিদলের প্রধান হয়ে ঢাকায় আসেন। ২৩ জুলাই সম্মেলন শেষে তিনি তাঁর গ্রামের বাড়ি কচুয়ায়ও আসেন হেলিকপ্টারযোগে। ওই দিন কচুয়া প্রেস ক্লাব তাঁকে সংবর্ধনা দেয়। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সিনিয়র অফিসার নীতি রানী দেব। সেদিন বিপ্লব বলেছিলেন, ‘আমার প্রকৃত ভূমিতে এসে যে সম্মান পেয়েছি তা আমার জীবনে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।’ সেই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনার ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।

বিপ্লবের কাকা প্রাণধন দেব কচুয়া উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি। আরেক কাকা মধুসূদন দেব গ্রাম্য চিকিৎসক। ভাতিজার বিজয় এবং মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন—এমন সংবাদে তাঁরা বেশ খুশি। প্রাণধন দেব বলেন, সোমবার বিকেলেও বিপ্লব কুমার দেবের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এ সময় পারিবারিক খোঁজখবরও নেন বিপ্লব। প্রাণধন দেব বলেন, ‘বিপ্লব দেব বলেছে আগামী ৮ মার্চ শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে। আমাকে যাওয়ার জন্য বিপ্লব নিমন্ত্রণও জানিয়েছে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। নির্বাচনে বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বে বিজিপি ৬০টি আসনের মধ্যে ৪৩টি আসন পেয়েছে। এর সঙ্গে অবসান হচ্ছে ত্রিপুরায় ২৫ বছরের বাম রাজত্বের। অন্য অনেকের নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকলেও সম্ভাবনায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বিপ্লব দেব। বিপ্লব দেব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হতে প্রস্তুত আছি। তবে দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা।’

বিপ্লব দেব ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপির দায়িত্ব পান ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি। তিনি আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে বিপ্লব দেব ১৫ বছর দিল্লিতে ছিলেন। সেখানে তিনি একটি ব্যায়ামাগারের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন।



মন্তব্য