kalerkantho


জবিতে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র সমাবেশ ও কনসার্ট

‘অপশক্তি রোধে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মাদক ও জঙ্গিবাদ পুলিশ দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে, নির্মূল করা যাবে না। দুর্বৃত্তদের কুচিন্তা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে অপশক্তির উগ্রপন্থী মতবাদ। মনোজগতের সুস্থ চিন্তা বিকাশের মাধ্যমে এর পরিবর্তন করতে হবে। মাদক ও জঙ্গিবাদ সামাজিক সমস্যা। সামাজিকভাবেই এর প্রতিরোধ করতে হবে। গতকাল সোমবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র সমাবেশ ও কনসার্টে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘শুধু মাদক ব্যবসায়ী, বিক্রেতা ও সেবনকারীদের প্রেপ্তার করলেই মাদক নির্মূল করা যাবে না। মাদক একটি সামাজিক সমস্যা, সামাজিকভাবেই এর মোকাবেলা করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্টেকহোল্ডারকে সম্পৃক্ত করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামী দিনে তোমরাই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। সুতরাং তোমরা সঠিকভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারলে জাতি সঠিক নেতৃত্ব পাবে। মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রচারণা শুরু করেছি।’ অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে নতুন করে ২০১৮ সালে ঘোষণা দিতে চাই, ‘আমরা দ্বিতীয়বারের মতো মুক্তিযুদ্ধ করব।’

জঙ্গিবাদ সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা অনেক জঙ্গি ধরেছি, যারা নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় অবসরে অথবা ক্লাসের বিরতিতে এক ধরনের লোক কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিপথগামী করছে। সুতরাং এখানে বিশ্ববিদ্যালয়েরও দায়িত্ব আছে।’ অনুষ্ঠানে সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, পুলিশ দিয়ে জঙ্গি ও মাদক দমিয়ে রাখা যাবে; কিন্তু নির্মূল করা যাবে না। এর জন্য মনোজগতে পরিবর্তন আনতে হবে। মতবাদ দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জুবিলি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কবি নজরুল কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে মাদকবিরোধী কনসার্টে ‘জলের গান’ ব্যান্ড দলসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী সংগীত পরিবেশন করেন।

 

 



মন্তব্য