kalerkantho


রাজবাড়ীতে গণধর্ষণের শিকার চিকিৎসক

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাজবাড়ীতে গণধর্ষণের শিকার চিকিৎসক

ঢাকা থেকে ফরিদপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক চিকিৎসক (২৪)। বাস থেকে নেমে অটোরিকশায় যাওয়ার সময় রাজবাড়ীর মজলিশপুর নামক স্থানে তাঁকে নামিয়ে চালক ও তার দুই সঙ্গী ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে তারা মোবাইল ফোনে আরো কয়েকজনকে ডেকে আনে এবং তারাও ধর্ষণে অংশ নেয়। অসুস্থ হয়ে ছাড়া পাওয়ার পর ওই চিকিৎসক কোনোক্রমে ফরিদপুরে র‌্যাব দপ্তরে গিয়ে ঘটনা জানান। র‌্যাবের সহযোগিতা নিয়ে পুলিশ দ্রুত তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে, যারা অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।

গতকাল রবিবার সকালে রাজবাড়ী থানায় এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করেছেন ওই নির্যাতিত নারী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামের মৃত আবুল মোল্লার ছেলে, অটোরিকশাচালক রানা মোল্লা (২৪), একই গ্রামের মৃত মুন্নাফ সরদারের ছেলে হান্নান সরদার (২৬) এবং সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের আরশাদ মোল্লার ছেলে মামুন মোল্লা (২০)।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী থানায় অবস্থান করা অবিবাহিত ওই চিকিৎসক বলেন, তিনি মালদ্বীপ থেকে প্রশিক্ষণ কোর্স সমাপ্ত করে এক বছর আগে রাজধানী ঢাকায় ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার তিনটি ক্লিনিকে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গত শুক্রবার বিকেলে তিনি কর্মস্থল থেকে ফরিদপুরে থাকা এক আত্মীয়ের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। বাসযোগে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত আসেন। এরপর লঞ্চে নদী পার হয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছান। সেখানে ফরিদপুরগামী বাস না পেয়ে তিনি রাজবাড়ীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি মাহেন্দ্র (থ্রিহুইলার) গাড়িতে করে রাজবাড়ী জেলা সদরের গোয়ালন্দ মোড়ে গিয়ে নামেন।

গাইনোকোলজি বিভাগের এই চিকিৎসক জানান, তখন ঘড়িতে রাত সাড়ে ৮টা বাজে। তিনি সেখানে ফরিদপুরগামী যানবাহনের অপেক্ষায় প্রায় ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় রানা মোল্লা এসে তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাওয়ার জন্য বলেন। তিনি অটোরিকশায় উঠে দেখেন সেখানে আগে থেকেই আরো দুই যুবক বসা। পরে তিনি জেনেছেন তাদের একজন হান্নান সরদার ও অন্যজন মামুন মোল্লা।

নির্যাতিতা চিকিৎসক বলেন, ‘অটোরিকশাটি ঢাকা-খুলনা মহাড়কের জেলা সদরের বসন্তপুর এলাকায় পৌঁছালে হান্নান সরদার আমার মুখে টর্চ লাইট ধরে। আমি প্রতিবাদ করি। পাশাপাশি চালক রানাকে দ্রুত গাড়ি চালাতে বলি; কিন্তু চালক মজলিশপুরের নিহাজ জুট মিলের কাছে গিয়ে গাড়ি থামিয়ে দেয়। আমি সে সময় চিৎকার শুরু করলে হান্নান আমার মুখ মাফলার দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং সবাই মিলে আমাকে পাশের বাঁশ বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। সেইসঙ্গে মোবাইল ফোনে আরো তিন-চারজনকে ডেকে আনে এবং তারাও আমাকে ধর্ষণ করে।’

চিকিৎসক জানান, তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেয়। তিনি তখন রাস্তায় এসে গাড়ি থামিয়ে ফরিদপুরে পৌঁছান এবং র‌্যাব ক্যাম্পে গিয়ে ঘটনাটি জানান। সকাল ১০টার দিকে (শনিবার) র‌্যাব সদস্যরা তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন এবং তাঁর শনাক্তমতে রানা, মামুন ও হান্নানকে গ্রেপ্তার করে। রানার অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

রাজবাড়ী থানা হাজতে আটক থাকা রানা মোল্লা বলে, ঘটনার সঙ্গে তারা তিনজনই জড়িত। মামুনও অটোরিকশা চালায়। সে হান্নানকে ডেকে আনে।

র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পের কম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইছ উদ্দিন জানান, শুরুতে ওই চিকিৎসক তাঁর পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। শনিবার রাতে তিনি তাঁর সঠিক পরিচয় প্রকাশ করেন।

রাজবাড়ী থানার ওসি তারিক কামাল বলেন, গতকাল দুপুরে চিকিৎসক নিজেই বাদী হয়ে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে এরই মধ্যে তাঁরা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছেন।


মন্তব্য