kalerkantho


অভিযুক্ত দুই শতাধিক হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

এরই মধ্যে ৩৫ এজেন্সির শাস্তি চূড়ান্ত, ২১টিকে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রংপুরের পীরগঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোতালেব আকন সস্ত্রীক হজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত বছর পুরো টাকা পরিশোধ করেন একটি বেসরকারি হজ এজেন্সিকে। সে অনুযায়ী সৌদি আরবে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকায় এসে পর পর চার দিনেও তিনি কোনো ফ্লাইট পাননি। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবে যাওয়া হলেও সেখানে এজেন্সির প্রতিশ্রুত সেবা পাননি। তাই হজের সময় মক্কার অফিসেই তিনি এ বিষয়ে অভিযোগ করে আসেন। হজের পর এই অভিযোগ আমলে নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের উদ্যোগ নেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সারা দেশের বিভিন্ন স্থানের সহজ-সরল হজযাত্রীরা হজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বহু সমস্যা ও প্রতারণার সম্মুখীন হয়। এমন ঘটনা বছরের পর বছর ধরেই ঘটছে। প্রতিবছরই হজের শেষে অভিযোগগুলোর তদন্ত করে মন্ত্রণালয়। কিন্তু এসব বন্ধ হচ্ছে না। এবার সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকৃত দোষী এজেন্সিকে বাছাই করে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি-১-এর পক্ষ থেকে ২১ এজেন্সিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি এবং তিনটিকে সতর্ক করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণাসহ দুই শতাধিক বেসরকারি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ তদন্তে নেমেছে ধর্ম মন্ত্রণালয় গঠিত তিনটি তদন্ত কমিটি। পর্যায়ক্রমে অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর প্রকাশ্য শুনানি গ্রহণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৩৫টির মতো এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তি চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রণালয়। শিগগিরই এসব এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (হজ) মো. শরাফত জামান বলেন, হজের সময় সৌদি আরবে ও বাংলাদেশে দুই শ এজেন্সির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রধানরা হলেন যুগ্ম সচিব (হজ) মো. হাফিজউদ্দিন, যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) মো. হাফিজুর রহমান ও যুগ্ম সচিব (সংস্থা) এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অভিযুক্ত এজেন্সির শুনানি গ্রহণ করে একটি তদন্ত কমিটি। এজেন্সিগুলো হলো এয়ারবাংলা ইন্টারন্যাশনাল, আকবর ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল, আল আমানাত ট্রাভেলস, গালফ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, হারামাইন ট্রাভেলস, শিমন ওভারসিস এক্সপ্রেস, তানভীর ট্রাভেলস, এয়ার ল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল, আল সাফা এয়ার ট্রাভেলস, দ্য সিটি ট্রাভেলস, ফিউচার অ্যাসোসিয়েটস ও হিমালয়া এক্সপ্রেস।

এ ছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ১৬টি এজেন্সির অভিযোগ তদন্ত করে তদন্ত কমিটি-২। এই তালিকায় থাকা এজেন্সিগুলো হচ্ছে প্রভাতী ট্রাভেল সার্ভিসেস, শানজিদ ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল, ফেয়ার লাইন ট্রাভেলস, খাজা এয়ার ট্রাভেলস, হাজারি হজ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, বুশরা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, আল রাইয়ান এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, গ্রিন ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস, হিজল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, জিয়ারাতে কাবা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, কাজী ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, মাসুম এয়ার ট্রাভেলস, মামুন ট্রাভেলস লিমিটেড, এমসিও ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, নামিরা ট্রাভেলস, নওশাদ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস ও রয়েল তায়বা এভিয়েশন।

মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তদন্ত কমিটি শুনানি শেষে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, স্থগিত, আর্থিক জরিমানা ইত্যাদি শাস্তি হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধর্মসচিব আনিছুর রহমান বলেন, হজযাত্রীদের সেবা দেওয়ার দায়িত্ব যারা নিচ্ছে তাদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

২১ এজেন্সিকে অব্যাহতি দিয়েছে প্রথম তদন্ত কমিটি : গত বছর হজের সময় অনিয়মের অভিযোগ ওঠা এজেন্সিগুলো নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া শুরু করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি। গতকাল তদন্ত কমিটি-১-এর পক্ষ থেকে ২১ এজেন্সিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি এবং তিনটিকে সতর্ক করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (হজ) মো. শরাফত জামান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।

নিবন্ধনের ক্রম নির্ধারণ : এদিকে চলতি বছর হজের নিবন্ধনের জন্য ক্রম নির্ধারণ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। গতকাল মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৮ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ১৬ হাজার ৭৩ ক্রমিক পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে তিন লাখ ৫২ হাজার ২৯২ ক্রমিক পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ পাবে।

নির্ধারিত ক্রমিকের মধ্যে যারা নিবন্ধন সম্পন্ন না করবে তাদের পরবর্তী কার্যক্রম জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতির অনুচ্ছেদ ৩.১.৯ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।



মন্তব্য