kalerkantho


খুলনার পর্যটন গুরুত্ব বাড়াবে প্রস্তাবিত শেখ রাসেল ইকো পার্ক

কৌশিক দে, খুলনা   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সরকারি উদ্যোগে খুলনায় সর্বপ্রথম গড়ে উঠছে শেখ রাসেল ইকো পার্ক। খুলনা মহানগরী থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে রূপসা নদীর তীর ঘেঁষে বটিয়াঘাটা উপজেলায় প্রস্তাবিত এই পার্কটি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের পর্যটনশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিনোদনের অন্যতম ক্ষেত্র তৈরি করবে।

খুলনা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র এবং প্রয়োজনীয় অর্থ পেলে ২০১৯ সালের আগেই পার্ক পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে।

খুলনা জেলা প্রশাসকের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকার দক্ষিণাঞ্চলের বটিয়াঘাটায় একটি অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই অন্যতম পদক্ষেপ খুলনার শেখ রাসেল ইকো পার্ক। রূপসা ব্রিজ থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে ৪ নম্বর মাথাভাঙ্গা মৌজায় পার্কটি স্থাপনের জন্য বছর দেড়েক আগে রূপসা নদীর তীরে ৪৩ একর খাসজমি নির্ধারণ করা হয়। এরই মধ্যে দুই হাজার ১০০ ফুট লম্বা ও সাড়ে ৯০০ ফুট চওড়া পার্কের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি সাড়ে ৪০০ পিলার দিয়ে সীমানা ঘেরা হয়েছে। এই কাজের জন্য সরকার প্রাথমিকভাবে সাড়ে ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। পরবর্তী সময়ে বিস্তীর্ণ এ জায়গায় বালু ভরাট এবং কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদ আরো  ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়।

খুলনার জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শেখ রাসেল ইকো পার্কটি হবে দেশের অন্যতম আধুনিক পার্ক। আধুনিক পিকনিক স্পট, মিনি সুন্দরবন, সুইমিংপুল স্থাপন করা হবে। শিশুদের জন্য থাকবে ব্যতিক্রমী কিছু রাইড। বয়স্ক লোকরাও বিনোদনে অংশ নিতে পারবেন। রূপসা নদীর তীরে পানির ওপর তৈরি হবে চলন্ত দোলনা। এখানে একই সঙ্গে সূর্য ওঠা আর অস্ত যাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করা যাবে।’

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ‘পর্যটনশিল্পে খুলনার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ব্যক্তিগতভাবে পার্কটি নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। আমরা দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও বন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় অর্থ পেলে দ্রুত এটি বাস্তব রূপ পাবে। সে ক্ষেত্রে চলতি বছরই অনেক কাজ শেষ হয়ে যাবে।’

সূত্র জানায়, মাটি ভরাটসহ প্রস্তাবিত পার্কটির ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ইকো পার্ক এলাকায় ভিড় জমাচ্ছে। এ জন্য রূপসা নদী সংলগ্ন পুল, ছাউনি তৈরি হয়েছে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও উদ্যোগের অভাবে সেগুলো নষ্ট হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে শেখ রাসেল ইকো পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শুধু খুলনা বা দেশের অভ্যন্তরেই নয়, মিনি সুন্দরবন, অভয়ারণ্য সৃষ্টি, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে বিদেশি পর্যটকরাও আকৃষ্ট হবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ারও সুযোগ রয়েছে।

 

 

 

 



মন্তব্য