kalerkantho


সন্দেহের ঘোর সর্ববৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ ঘিরে

আবুল কাশেম ও আরিফুর রহমান   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সন্দেহের ঘোর সর্ববৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ ঘিরে

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে একটি অয়েল রিফাইনারি কম্পানি করতে চায় সৌদি আরব ও দুবাইয়ের দুটি প্রতিষ্ঠান। তাতে চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগের এই সর্ববৃহৎ প্রস্তাব গত নভেম্বর মাসে নিবন্ধন হয়েছে। তবে প্রকৃতপক্ষে এ বিনিয়োগ আসবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ। প্রতিষ্ঠান দুটির আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক, সে ক্ষেত্রে এ দেশীয় কনসালট্যান্ট জানিয়েছেন, তৃতীয় পক্ষের জামানতে বিভিন্ন দেশের ব্যাংক থেকে বিনিয়োগের অর্থ ঋণ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্র মণ্ডল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সৌদি আরব ও দুবাইয়ের দুটি কম্পানির প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছিল। গত নভেম্বর মাসে আমরা তার নিবন্ধন দিয়েছি। নিবন্ধন প্রস্তাব জমা দেওয়ার আগে যৌথ মূলধনী কম্পানি ও ফার্মসমূহের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হতে হয়। ওখানে নিবন্ধনের কাগজপত্রসহ যখন বিডায় নিবন্ধন নিতে আসে, তখন আমরা কাগজপত্রগুলো ঠিক থাকলে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন করি। নিবন্ধনের পরে তারা বিনিয়োগ করল কি না, সেটা আমরা দেখি না।’

বিনিয়োগ প্রস্তাবনা অনুসারে, ‘চিটাগাং ইন্টারন্যাশনাল এইটিআইজি অয়েল রিফাইনারি’ নামের কম্পানিটির প্রতিদিন তিন লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল শোধন করে এলপিজি, অকটেন, কেরোসিন ও বিটুমিন উৎপাদন করার কথা। এই শিল্প স্থাপনে ছয় বিলিয়ন ডলার বা চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে সৌদি আরবের আসির হাই-টেক ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ ও দুবাইয়ের রাশিদ আল হাদি জেনারেল ট্রেডিং। বাংলাদেশে স্থানীয় কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছে কসমোপলিটন গ্রুপ।

সৌদি আরব ও দুবাইয়ের যে দুটি প্রতিষ্ঠানের এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করার কথা বাংলাদেশে, তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া যায়নি। নেই সুনির্দিষ্ট ঠিকানা। সৌদি প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘আসির হাই-টেক ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ’ উল্লেখ থাকলেও সৌদিতে ‘হাই-টেক ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট পাওয়া যায়। আসির হাই-টেক ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ নামে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিনিয়োগে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান দুটির অর্থিক অবস্থা একেবারে দুর্বল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিডার নিবন্ধন তথ্যে কসমোপলিটন গ্রুপের করপোরেট অফিসকেই এই প্রকল্পের স্থানীয় অফিস হিসেবে দেখানো হয়েছে। রাজধানীর বনশ্রীর ‘ই’ ব্লকের ১ নম্বর রোডের ওই ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায়, সেটি একটি আবাসিক ভবন। ভবনটির নিচতলার অর্ধেক অংশজুড়ে কার পার্কিংয়ের জায়গা রয়েছে, বাকি অংশে করপোরেট অফিস। সেখানে দুজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী আছেন।

কসমোপলিটন গ্রুপের এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) মো. নূর নবী ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০২১ সালে রিফাইনারিটি বাণিজ্যিকভাবে চালু হবে। শুরুতে আমরা এক বিলিয়ন ডলার (৮৪ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগ করব। পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগ ছয় বিলিয়ন ডলারে নেব ২০২১ সালের মধ্যে। আরো আটটি প্রকল্পে আমরা ৩৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করব। আমরা যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করব, তা জার্মানি, ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকগুলো ঋণ দেবে। আমি প্রায় দুই দশক ধরে বিদেশে কনসালট্যান্টের কাজ করি। বাংলাদেশে এটাই আমার প্রথম কাজ।’

বাংলাদেশে অনেক বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগ হয় না। এটিও তেমনই বিনিয়োগ প্রস্তাব কি না এমন প্রশ্নে নূর নবী বলেন, ‘এই বিনিয়োগ নিয়ে যেসব নেতিবাচক দিক ছিল, তা পার করে এসেছি। এখন আর কোনো চিন্তা নেই।’

 



মন্তব্য