kalerkantho


কন্যা সাহসিকা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কন্যা সাহসিকা

প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) কল। এতেও কাজ না হওয়ায় পরদিন জেলা প্রশাসককে (ডিসি) মোবাইল ফোনে কল করে বাল্যবিয়ের খবর দেয় ছাত্রী। প্রশাসনের উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত মেয়েটির বিয়ে বন্ধ হয়েছে। এটি ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় গত বুধ ও গতকাল বৃহস্পতিবার।

মেয়েটি বাউফলের একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী। তার অভিভাবকরা ঢাকায় কর্মরত ভোলার বাসিন্দা এক যুবকের সঙ্গে বিয়ের কথা পাকা করেন। দুজনের অভিভাবক বিয়ের দিন বুধবার ধার্য করেন। বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েটি ওই দিনই বাউফল ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহামুদ জামানকে কল করে বিয়ে বন্ধের অনুরোধ জানায়। ইউএনও দ্রুত মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিভাবকরা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে না দেওয়ার বিষয়টি ইউএনওকে নিশ্চিত করেন। কিন্তু অভিভাবকরা মেয়েকে পটুয়াখালী আদালতের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার বিয়ে দেবেন বলে খবর পায় মেয়েটি। তাৎক্ষণিক সে ডিসি ড. মাসুমুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করে বিষয়টি জানায়। ডিসি বিষয়টি ইউএনওকে জানান। তিনি দ্বিতীয়বার ওই বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং মেয়েকে বাল্যবিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা নেন। এ সময় ওই মেয়ে, তার মা-বাবা, আত্মীয়স্বজনসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

নাম-পরিচয় প্রকাশে আপত্তির কথা জানিয়ে মেয়েটি কালের কণ্ঠকে বলে, ‘এত অল্প বয়সে বিয়ে ভালো লাগছে না। আমি এসএসসিতে ভালো রেজাল্ট করেছি। লেখাপড়া শেষ করতে চাই। বিয়েটি বন্ধ হলে আমি লেখাপড়া শেষ করতে পারব এবং একদিন চাকরিও করতে পারব। এ কারণে আমি কল করে ইউএনও এবং ডিসি স্যারকে জানিয়েছি। বিয়ে বন্ধ হওয়ায় আমি খুবই খুশি।’



মন্তব্য