kalerkantho


‘ডাক্তারই আমার বইনডারে খুন করছে’

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর এলাকায় এক গৃহবধূ ভুল চিকিৎসায় মারা গেছেন বলে স্বজনরা অভিযোগ করছে। গৃহবধূ পারভীন খাতুন (২১) ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার চারবাড়িয়া গ্রামের রুবেল মিয়ার স্ত্রী। অভিযুক্ত চিকিৎসা কেন্দ্রের নাম নয়নপুর তানিয়া হাসপাতাল। পরিবারটি শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পশ্চিম গ্রামের শামসুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকে। রুবেল পরিবহন শ্রমিক।

স্বজনরা জানায়, সপ্তাহখানেক ধরে পারভীন পেটব্যথায় ভুগছিলেন। গত বৃহস্পতিবার নয়নপুর তানিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ডা. আবদুস সালাম জানান, রোগী অ্যাপেন্ডিক্সের অন্ত্রসংলগ্ন নলের প্রদাহে ভুগছেন। দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হবে। নইলে এপেন্ডিক্স ফেটে মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। নিহতের বড় ভাইয়ের স্ত্রী নূপুর আক্তার জানান, তড়িঘড়ি অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই সময় অস্ত্রোপচার কক্ষে একজন চিকিৎসক ও একজন মাত্র সেবিকা ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের পরই অবস্থার অবনতি হয় পারভীনের। একপর্যায়ে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, এর কয়েক মিনিট পরই নিস্তেজ হয়ে পড়েন পারভীন।

পারভীন আক্তারের বড় ভাই বিল্লাল হোসেন জানান, রাতেই চিকিৎসকের পরামর্শে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেখে বলেন, রোগী অনেক আগেই মারা গেছেন। বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, ‘ডাক্তারই আমার বইনডারে খুন করছে।’

তানিয়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আবদুস সালাম বলেন, ‘অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করার পর রোগী সুস্থ ছিলেন, হাঁটাহাঁটিও করেছেন। রাত ১০টার পর রোগীর শ্বাসকষ্ট হলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।’ অস্ত্রোপচার কক্ষে কতজন ছিলেন—এর কোনো জবাব দেননি ওই চিকিৎসক। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোকন মিয়া বলেন, ‘অস্ত্রোপচারে কোনো ত্রুটি ছিল না। অন্য কারণে রোগী মারা যেতে পারেন।’ শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘অপচিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।’

গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘আমাকে ঘটনাটি ফোন করে জানানো হয়। কিন্তু গৃহবধূর স্বজনরা কোনো অভিযোগ করেননি।’


মন্তব্য