kalerkantho


‘বন্দুকযুদ্ধে’ নূরা নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘বন্দুকযুদ্ধে’ নূরা নিহত

মেরুল বাড্ডা মাছের আড়তে গতকাল রবিবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, এক দল লোক জড়ো হয়ে কথা বলছে। কাছে যেতেই সবাই চুপ। পরিচয় দেওয়ার পর জানা গেল, তারা সবাই মাছ ব্যবসায়ী। একজন বলে উঠল, ‘যারে আমরা ধইরা পুলিশের কাছে দিলাম, হুনতাছি হে নাহি ক্রসফায়ারে মইরা গ্যাছে।’ ওই সময় অন্যরাও কণ্ঠ মেলায় তার সঙ্গে। কে মারা গেছে জানতে চাইলে এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, তার নাম নূরুল ইসলাম ওরফে নূরা। সে সন্ত্রাসী।

জানা যায়, গতকাল ভোরের দিকে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নূরার মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার দিনের বেলা আবুল বাশার ওরফে বাদশা নামের একজনকে গুলি করে পালানোর সময় রামপুরা ব্রিজ এলাকায় জনতার হাতে ধরা পড়েছিল নূরা।

বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, নূরাকে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ রাত সোয়া ৩টার দিকে অভিযানে নামে। সাঁতারকুল এলাকায় গেলে ডিবির সঙ্গে নূরার সহযোগীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় নূরা আহত হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জানা গেছে, নূরার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অন্তত ৪০টি মামলা রয়েছে। বনানীতে জনশক্তি ব্যবসায়ী এস সিদ্দিক হত্যা মামলারও অন্যতম আসামি নূরা। গত নভেম্বরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর পর থেকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ হিসেবে তাকে খুঁজছিল পুলিশ। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, একটি অস্ত্র মামলায় নূরার ৩৭ বছরের সাজা হয়েছিল। একটি ডাকাতির মামলায় তার সাত বছরের সাজা হয়। ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কারাগারে থাকার পর জামিন নিয়ে পলাতক ছিল সে। জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গী ও গাজীপুরা এলাকায় বাদশা, আরিফ, মাসুমসহ অন্য সহযোগীদের নিয়ে মাদক কারবার করত নূরা। সেখান থেকে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ছড়িয়ে দিত। ওই মাদক কারবারির এক লাখ টাকা নিয়ে সম্প্রতি বাদশার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয় তার। ওই বিরোধের জের ধরেই বাদশাকে হত্যার পরিকল্পনা করে নূরা। বাদশা গাজীপুর থেকে ঢাকায় এসে পরিবারের সঙ্গে বাড্ডা এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। গত শনিবার বাদশার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে নূরা ও তার সহযোগীরা। কৌশলে বাদশাকে মেরুল বাড্ডার মাছের আড়তে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে নূরা। গুলি করে পালানোর সময় নূরাকে জনতা পিটুনি দিয়ে বাড্ডা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

বাদশা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যায়। ওই ঘটনায় নিহত বাদশার স্ত্রী শিউলি আক্তার গতকাল সকালে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলো নূরুল ইসলাম ওরফে নূরা, আরিফ, রাজু ও মাছুম।

বাদী মামলার এজাহারে বলেন, ১১ বছর আগে বাদশার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তিনি নিঃসন্তান। স্বামীকে নিয়ে একসময় তিনি গাজীপুর জেলার টঙ্গী থানার গাজীপুরা এলাকায় বসবাস করতেন। এ ছাড়া বাড্ডার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করতেন তাঁরা। তাঁর স্বামী বাদশা একসময় গার্মেন্টে কাজ করত। এ ছাড়া বাসের হেলপার, ছোটখাটো ব্যবসা ও সর্বশেষ মৌচাক মার্কেটের একটি দোকানে ছোটখাটো সেলসম্যানের চাকরি করত। গাজীপুরা এলাকায় বসবাসের সময় এক বছর আগে আল আমিন ও আরিফের সঙ্গে পরিচয় হলে তারা একসঙ্গে ছোটখাটো ব্যবসা করত। ওই ব্যবসার সূত্র ধরেই নূরুল ইসলাম নূরা, রাজু ও মাসুমের সঙ্গে তাঁর স্বামীর পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়। তারা একসঙ্গে চলাফেরা করত। তিন মাস আগে আল আমিন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যায়। এর পর থেকে নূরা ও তার সহযোগীরা আল আমিনের লগ্নি করা টাকা তার স্ত্রীকে ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তবে বাদশা ওই টাকা আল আমিন মারা যাওয়ার আগেই তার স্ত্রীকে ফেরত দেয়। এর পরও তারা বিষয়টিতে সন্তুষ্ট না হয়ে বাদশার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। বাদী বলেন, ‘এরই মধ্যে জানতে পারি নূরাসহ তার সহযোগীরা আগে থেকে খারাপ, ভয়ংকর সন্ত্রাসী। একাধিক মামলার আসামি। এ কারণে আমার স্বামীকে তাদের সঙ্গে মিশতে নিষেধ করি। এরপর গাজীপুরা থেকে বাড্ডায় চলে আসি। এর পরও নূরা ও তার সহযোগিরা আমরা স্বামীকে হত্যার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল। বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিল আমার স্বামী।’

 

 

 



মন্তব্য