kalerkantho


ফরিদপুরে ভুল চিকিত্সায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

আল্ট্রাসনোগ্রামে ছিল যমজ, অস্ত্রোপচারে মিলল এই শিশুটিকে, হাসপাতালে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ফরিদপুর শহরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে ভুল চিকিত্সায় জন্মের সাড়ে সাত ঘণ্টা পর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নবজাতকের স্বজনদের অভিযোগ, এক নার্স শিশুটিকে একটি ইনজেকশন পুশ করলে সঙ্গে সঙ্গে সে রক্তবমি করতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পরই সে মারা যায়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি অপুষ্টির কারণে মারা যায়।

এ ছাড়া অস্ত্রোপচারের আগে যমজ সন্তান থাকার কথা জানানো হলেও পরে একটি সন্তান হওয়া নিয়েও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় প্রসূতির অস্ত্রোপচার করে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয় যে সন্তান একটিই ছিল। যদিও প্রথম দফায় অস্ত্রোপচারের সময়ই যমজ সন্তান হয়েছিল কি না তা পরিষ্কার হয়নি।

গত শনিবার রাত ও গতকাল রবিবার এই ঘটনাগুলো ঘটে। মারা যাওয়া নবজাতকটির মায়ের নাম সেলিনা বেগম। তিনি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রসুলপুরের সৌদি আরবপ্রবাসী আজাদ খলিফার স্ত্রী। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ডা. রিজিয়া আলম। শনিবার রাতে সেলিনা প্রসব বেদনা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে রাতে তাঁর প্রথম দফায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন ডা. রিজিয়া আলম।

স্বজনদের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকে ডা. রিজিয়া আলমের তত্ত্বাবধানেই মা মনি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও  ডা. রিজিয়া আলম হেলথ কেয়ার সেন্টারে চিকিত্সা নেন সেলিনা বেগম। সেখানে এই চিকিৎসক রিজিয়া আলমই আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদন দেখিয়ে বলেছিলেন, সেলিনার গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে।

প্রসূতি সেলিনা বেগমের বড় বোন জাহানারা পারভীন বলেন, ‘শনিবার বিকেলে প্রসব বেদনা উঠলে তাকে ডা. জাহেদ শিশু হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে রাত ৮টার দিকে ডা. রিজিয়া আলম তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করে একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয় বলে জানান। কিন্তু আল্ট্রাসনোগ্রাম অনুযায়ী সেলিনার যমজ সন্তান হওয়ার কথা, যা ডা. রিজিয়া আলমই আগে জানিয়েছিলেন। আমরা জানতে চাইলে ডাক্তার জানান, সেলিনার গর্ভে আর কোনো সন্তান নেই। শনিবার গভীর রাতে সেলিনার পেটে বেদনা শুরু হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে আজ (গতকাল রবিবার) সেলিনার ফের আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। পরে বিকেলে ওই চিকিৎসক সেলিনার ফের অস্ত্রোপচার করে জানান, সেলিনার গর্ভে কোনো সন্তান নেই। চিকিৎসকের কথায় বিষয়টি আমরা মেনে নেই।’ তবে সেলিনা সুস্থ রয়েছে বলে তিনি জানান।

হাসপাতালটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আক্কাস মণ্ডল দাবি করেন, নবজাতকটি মারা গেছে অপুষ্টির কারণে। যমজ সন্তানের ব্যাপারে তিনি বলেন, সেলিনার স্বজনদের দাবি অনুযায়ী চিকিৎসক রি-ওপেন করে গর্ভে কোনো সন্তান পাননি। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক রিজিয়া আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।


মন্তব্য