kalerkantho


শিশু আইন নিয়ে মন্ত্রণালয়

সংশোধনের খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অস্পষ্টতা দূর করতে শিশু আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। ওই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। গতকাল রবিবার এ তথ্য জানানোর পর আদালত বলেন, ‘আশা করি, আইনটি স্পষ্ট করে এর সংশোধনী জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনেই পাস করতে সচিবরা পদক্ষেপ নেবেন।’ পরে আদালত আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

আইনটির খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর কথা বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চকে গতকাল জানিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। আদালতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার আশিকুর রহমান। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ।

গত ১৫ জানুয়ারি শিশু (সংশোধন) আইন-২০১৮-এর খসড়া দাখিল করার পর ১২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য ছিল। আদালত খসড়া আইনের অস্পষ্টতার বিষয়ে লিখিত প্রতিবেদন দিতে ওই দিনই নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় গতকাল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর কথা আদালতকে জানানো হয়।

শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার বিচার কোন আইনে বা কোন আদালতে হবে—এ বিষয়ে ২০১৩ সালের শিশু আইনে অস্পষ্টতা থাকায় আইনটি সংশোধন করতে সরকারকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি খসড়া দাখিল করা হয়।

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ঢাকা, কক্সবাজার ও রংপুরে পৃথক চার মামলায় বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। চারটি মামলার মধ্যে দুটি করা হয় শিশু আইনে, অন্য দুটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। এ ক্ষেত্রে আসামি প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাঁর বিচার কোন আইনে বা কোন আদালতে হবে সে বিষয়ে ২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট তিন সচিবের কাছে ব্যাখ্যা চান হাইকোর্ট। কিন্তু ব্যাখ্যা না দেওয়ায় সচিবদের (আইন মন্ত্রণালয়ের দুজন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন) বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়। এরপর তাঁরা আদালতে হাজির হয়ে আইনের খসড়া করা হয়েছে বলে জানান।

 



মন্তব্য