kalerkantho


ফোরজি মোবাইল ফোন সেবা

তিন বছর ঝুলে থাকার পর আজ তরঙ্গ নিলাম

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তিন বছর ঝুলে থাকার পর আজ তরঙ্গ নিলাম

ফোরজি বা চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল ফোন সেবা চালু করার জন্য তরঙ্গ নিলাম হতে যাচ্ছে আজ মঙ্গলবার। তিন বছর ঝুলে থাকার পর আজ সকাল ১১টায় ঢাকা ক্লাবে এ নিলাম হচ্ছে। তবে দেশের ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরের মধ্যে চারটিই এ নিলামে অংশ নিচ্ছে না। গ্রামীণফোন আর  বাংলালিংকের মধ্যেই এ নিলাম সীমাবদ্ধ থাকছে। 

বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, রবি আজিয়াটা ও সিটিসেল আগে তরঙ্গ নিলামে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত বিডি আর্নেস্টমানি জমা দেয়নি। কার্যক্রম বন্ধ থাকা সিটিসেলের বিষয়ে ধারণা করা হচ্ছিল, এই নিলামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন কোনো অংশীদারের দেখা মিলবে। কিন্তু তা হয়নি। সরকারের মালিকানাধীন মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকেরও সাড়া মেলেনি। বিটিআরসি আলাদা তিনটি ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলামের আয়োজন করলেও গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের আগ্রহ শুধু দুটি ব্যান্ডে। পছন্দের দুটি ব্যান্ডের নিলামযোগ্য সব তরঙ্গ নিতেও আগ্রহী নয় তারা। বিটিআরসির সচিব মো. সরওয়ার আলম গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যে তিনটি ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলামের আয়োজন করা হয়েছে সেগুলো হলো ৯০০ মেগাহার্টজ, ১৮০০ মেগাহার্টজ ও ২১০০ মেগাহার্টজ। নিলামের নীতিমালা অনুযায়ী, ৯০০ ও ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলামের ক্ষেত্রে প্রতি মেগাহার্টজের ভিত্তিমূল্য তিন কোটি মার্কিন ডলার। আর ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গের ভিত্তিমূল্য মেগাহার্টজ প্রতি দুই কোটি ৭০ লাখ ডলার। প্রতিটি ব্যান্ডের নিলামে অংশ নেওয়ার বিড আর্নেস্টমানি ১৫০ কোটি টাকা করে। গ্রামীণফোনের আগ্রহ ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গে। বাংলালিংক ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের সঙ্গে ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডও নিতে পারে। এই দুই ব্যান্ডের তরঙ্গ টুজি ও থ্রিজির সঙ্গে ফোরজিতেও ব্যবহার করা যাবে।

বিটিআরসি সূত্র মতে, নিলামে অংশ না নিলেও রবি আজিয়াটা ফোরজি সেবা দিতে তরঙ্গ ব্যবহারে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার জন্য আবেদন করেছে। প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা যেকোনো তরঙ্গে যেকোনো প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়ার সুবিধা। মোবাইল অপারেটররা বর্তমানে টুজি ও থ্রিজি সেবার জন্য ৯০০, ১৮০০ ও ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ ব্যবহার করে। প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা পেলে এই তিনটি ব্যান্ডের তরঙ্গ দিয়ে ফোরজি সেবাও দেওয়া যাবে। তবে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার জন্য আলাদা মূল্য দিতে হবে মোবাইল ফোন অপারেটরদের। একটি অপারেটরের কাছে থাকা সব তরঙ্গ একসঙ্গে প্রযুক্তি নিরপেক্ষ করা হলে মেগাহার্টজপ্রতি তরঙ্গের দাম পড়বে ৪০ লাখ ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৩২ কোটি টাকা। আর আংশিক তরঙ্গ প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে দাম দিতে হবে ৭৫ লাখ ডলার বা ৬০ কোটি টাকার কাছাকাছি। তবে মোবাইল অপারেটরদের কাছে থাকা থ্রিজি সেবার জন্য ব্যবহৃত ২১০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ শুরু থেকেই প্রযুক্তি নিরপেক্ষ।

বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, নিলামযোগ্য তিন পৃথক ব্যান্ডের তরঙ্গের মধ্যে ই-জিএম বা ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গের পরিমাণ ৩.৪ মেগাহার্টজ। রবি ও এয়ারটেল একীভূত হওয়ার পর এই তরঙ্গ সমর্পণ করে। ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গের পরিমাণ ৩৩ মেগাহার্টজ। ওয়ার্ল্ডটেলকে বরাদ্দ দেওয়া এ ব্যান্ডের ৭.৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বাতিল করায় নিলামযোগ্য এ তরঙ্গের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ মেগাহার্টজে। উন্নত ইকোসিস্টেম এবং প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার মাধ্যমে এর সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব বলে এর ভিত্তিমূল্য বেশি। আর থ্রিজিতে ব্যবহৃত ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের মোট ২৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ রয়েছে। এর আগে এ ব্যান্ডের ১৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ অবিক্রীত ছিল এবং ১০ মেগাহার্টজ প্রতিবন্ধকতা সমাধানের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকায় সংরক্ষিত ওই ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গও নিলামের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা ছাড়াই টুজির ১৮০০ ও টুজির ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলাম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছিল বিটিআরসি। ওই সময় নিলামে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা ছাড়াই ২১০০ ব্যান্ডের জন্য প্রতি মেগাহার্টজের ভিত্তিমূল্য ২০ মিলয়ন ডলার এবং ১৮০০ ব্যান্ডের জন্য ৩০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু দেশের চার শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটরের প্রধান অংশীদারদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ নিলামের জন্য বিনিয়োগ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।



মন্তব্য