kalerkantho


সুন্দরবনে বাঘ কমায় উদ্বেগ সংসদীয় কমিটির

প্রজনন বাড়াতে বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের প্রস্তাব

নিখিল ভদ্র   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। সর্বশেষ জরিপে এখানে মাত্র ১০৬টি বাঘের অস্তিত্ব মিলেছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির বৈঠকে বাঘের সংখ্যা বাড়াতে প্রজনন বাড়ানোর জন্য বিশেষজ্ঞ প্যানেল নির্বাচনের পাশাপাশি নানা পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এমনই বাস্তবতায় ১৬ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনে আবারও বাঘ গণনা শুরু হচ্ছে।

সংসদীয় কমিটির কাছে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে সবচেয়ে বেশি বাঘের অস্তিত্ব পাওয়া যায় ১৯৮২ সালে। ওই সময়ে বাঘ ছিল ৪৫০টি। ২০০৪ সালে তা দাঁড়ায় ৪৪০টিতে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদনে সুন্দরবনে ১০৬টি বাঘ আছে বলে জানানো হয়। বনের ছয় হাজার কিলোমিটার আবাসস্থলে বাঘের এই সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। আবাসস্থলের পাশাপাশি খাদ্য সংকটের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। সে সময় আশঙ্কাজনক হারে বাঘ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।

আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় বাঘ হত্যা এবং বাঘের চামড়া ও হাড় পাচারের বিষয়টি। প্রসঙ্গক্রমে উঠে আসে গত ২৩ জানুয়ারি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিখালী এলাকায় লোকালয়ে আসা বাঘ হত্যাসহ বিভিন্ন সময়ে গণপিটুনিতে বাঘের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাও। এসব বিষয়ে আরো বেশি সতর্ক হতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় কমিটির পক্ষ থেকে। কমিটি বাঘের প্রজনন বাড়াতে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল নির্বাচনের মাধ্যমে করণীয় নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ কালের কণ্ঠকে জানান, সুন্দরবনে বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রজনন বাড়ানোর বিকল্প নেই। মন্ত্রণালয়কে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। কিভাবে বাঘের প্রজনন বাড়ানো যায় তারা তা নির্ধারণ করবে।

বাঘ গণনা শুরু ১৬ ফেব্রুয়ারি : এদিকে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে সুন্দরবনে আবারও ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে বাঘ গণনা শুরু হচ্ছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে এ কার্যক্রম চলবে ৪০ দিন। বন বিভাগের ১৯ জন ও ওয়াইল্ড টিমের ৩৭ জন সদস্য এ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এত দিন সুন্দরবনে বাঘ গণনা করা হতো পায়ের ছাপ দেখে, রেডিও কলার লাগিয়ে অথবা জঙ্গলে ক্যামেরা ট্র্যাক করে। এবার সেই পদ্ধতির পরিবর্তে অত্যাধুনিক ক্যামেরা লাগানো হবে। বনের দুটি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে ৪৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ২৩৯টি পয়েন্টে বনের গাছ বা খুঁটির সঙ্গে বসানো হবে ৪৭৮টি ক্যামেরা।

এ বিষয়ে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মদিনুল আহসান বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘ কী সংখ্যায় বাড়ছে বা কমছে এবং স্থিতি কত, তা জানার জন্য তিন বছর পর পর বাঘ গণনা করা হয়। এবারও তা-ই করা হচ্ছে। গণনা শেষে জুনে বাঘের বর্তমান সংখ্যা প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’



মন্তব্য