kalerkantho


রয়টার্সের অনুসন্ধান

ইন দিনে একসঙ্গে হত্যা করা হয় ১০ রোহিঙ্গাকে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাখাইনে নির্বিচারে রোহিঙ্গা হত্যার একটি ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তাতে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে ‘ইন দিন’ নামের একটি গ্রামে একসঙ্গে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যার পর গণকবর দেওয়া হয়। এদের মধ্যে দুজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে বৌদ্ধ গ্রামবাসী। বাকিদের মৃত্যু হয় সেনাদের গুলিতে।

রয়টার্সের দাবি, মূলত ওই ঘটনার তদন্ত করার কারণেই গত ডিসেম্বরে তাদের দুই সাংবাদিককে মিয়ানমার সরকার গ্রেপ্তার করে। এদিকে ১০ রোহিঙ্গাকে গণকবর দেওয়ার ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় ইন দিন গ্রামে হত্যাযজ্ঞের ঘটনাটি ঘটে গত ২ সেপ্টেম্বর। ঘটনার দিন গ্রামটিতে অভিযান চালায় সেনারা। সঙ্গে ছিল বৌদ্ধ গ্রামবাসী। অভিযানের পর ১০ জনকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদের দুজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে স্থানীয় বৌদ্ধরা। বাকিদের সেনারা গুলি করে হত্যা করে। এরপর একটি গর্ত খুঁড়ে ১০ জনকে একসঙ্গে কবর দেওয়া হয়।

খবরের সঙ্গে ঘটনার কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে রয়টার্স। একটি ছবিতে দেখা যায়, ১০ জনকে এক সারিতে বসানো হয়েছে। তাদের দুই হাত মাথার পেছনের দিকে রাখা। তাদের পেছনে বিস্তীর্ণ জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে বৌদ্ধ গ্রামবাসী ও সেনারা। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, একটি গর্তে ১০ জনের লাশ পড়ে আছে। একটি ছবি আছে গণকবরে মাটি দেওয়ার পরের দৃশ্যের।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এ ঘটনার তদন্ত করছিলেন তাদের দুই সাংবাদিক। তাঁরা স্থানীয় গ্রামবাসীর পাশাপাশি সাক্ষাৎকার নেন নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক সদস্যের। এমনকি হত্যাযজ্ঞে অংশ নেওয়া এক বৌদ্ধ সাক্ষাৎকারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রয়টার্সের গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই সাংবাদিক হলেন ওয়া লোন এবং কায়া সিও উ। ‘অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট’ (রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার আইন) লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১২ ডিসেম্বর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ধরনের হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ ওঠার পর তা তদন্ত করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। তদন্তে ১০ জনকে হত্যার প্রমাণও তারা পায়। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ১০ জন ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’ ছিল। যদিও রয়টার্সের গতকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের দুই সাংবাদিক ওই ১০ জনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাননি।

এদিকে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ তে রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করছি না। ইন দিনে গণহত্যার প্রমাণ পেলে সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।’

এদিকে ইন দিনের ঘটনার স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের মুক্তির দাবিও জানিয়েছে তারা। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেদার নয়ের্ট বলেন, ‘এবারের খবরটিও এটাই ইঙ্গিত করে যে এসব ঘটনার স্বাধীন তদন্ত হওয়া দরকার। তদন্তে মিয়ানমার সরকারেরও সহযোগিতা থাকতে হবে।’ সূত্র : বিবিসি।



মন্তব্য