kalerkantho


নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ১০ লাখ ভোটারের আগাম ভোটের সুযোগ

আইন সংস্কারের উদ্যোগ ইসির

কাজী হাফিজ   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করার সময় নিজ এলাকা বা কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে না—এমন ১০ লাখ ভোটারের জন্য সংসদ নির্বাচনে আগাম ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে আগ্রহী নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইন সংস্কার কমিটি। এর মধ্যে প্রায় ছয় লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং বাকি চার লাখের বেশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর ২৭ অনুচ্ছেদে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের পোস্টাল ব্যালটে আগাম ভোট দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে সেই বিধান কার্যকর হয় না। পোস্টাল সেবাও এখন সেভাবে সচল নয়। এ কারণে অন্য কোনো পদ্ধতিতে এই আগাম ভোটের ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে ইসির আইন সংস্কার কমিটি। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সুপারিশও রয়েছে।

তা ছাড়া সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের বদলে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদেরই রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার যে দাবি ছিল মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের তা করছে না ইসি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ নির্বাচনসংক্রান্ত বিদ্যমান ১৪টি আইন ও বিধি সংস্কার করার জন্য গত ১৬ জুলাই নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমকে প্রধান করে আইন ও বিধি সংস্কার কমিটি গঠন করে ইসি। এসব আইন ও বিধি সংস্কারের জন্য মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের মতামতও সংগ্রহ করা হয়। তবে প্রাপ্ত মতামতের মধ্যে ইসির এখতিয়ারবহির্ভূত মতামত আগেই বাদ দেওয়া হয়। আইন সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ৩১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইসি সুধীসমাজ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, নারী নেতৃত্ব ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপ করে। তাতে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনসহ ইসির এখতিয়ারবহির্ভূত বেশ কিছু প্রস্তাব আসে।

সংলাপ শেষে গত ২৬ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যমান আইনে বড় কোনো পরিবর্তন আনার দরকার নেই। যে আইন রয়েছে তা-ই যথেষ্ট। আইন প্রয়োগ করতে হবে।

তবে নির্বাচনী আইন ও বিধি সংস্কার বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম গত মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্বাচনের দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আগাম ভোটের পক্ষে বিধান  রেখে আইন সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির বিষয়ে এখনো নানা দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের পক্ষে বিধান রাখার বিষয়েও কাজ চলছে। এ জন্য কমিটির আরো কয়েকটি বৈঠক দরকার।

কবে নাগাদ আরপিও সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত হতে পারে—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আগামী রবিবার কমিশনের সভায় এ খসড়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এরপর খসড়াটি পুরোপুরি প্রস্তুত করে ফেব্রুয়ারি মাসেই কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। এরপর কমিশন সভায় অনুমোদন পেলে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রস্তাব ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের বদলে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদেরই রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে হবে। অনেক রাজনৈদিক দল এবং সুধীসমাজের প্রতিনিধিরাও একই প্রস্তাব রাখেন। এ বিষয়ে কবিতা খানম বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদেরই থাকছে। কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কর্মকর্তারাও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ বিষয়ে আরপিওতে কোনো পরিবর্তন আনার প্রস্তাব থাকছে না।’

আইন সংস্কার কমিটি নির্বাচন কমিশনের অনুকূলে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বা পক্ষপাতিত্ব করলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করার ক্ষমতা অর্জন করার প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে কবিতা খানম বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৭(৬) ধারায় নির্বাচনের সময় যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাহারের কথা বলা আছে। আমরা এর সঙ্গে বদলির বিষয়টিও যোগ করতে চাই। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কমিশনের নির্দেশ কতটা সময়ের মধ্যে কার্যকর করতে হবে তাও বলা থাকবে। কমিশনের এসংক্রান্ত নির্দেশ কার্যকর না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও বিধান থাকবে।’

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ১৬ জুলাই প্রকাশিত ইসির রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনায় বলা ছিল, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আইন সংস্কারের প্রাসঙ্গিক খসড়া প্রস্তুত হবে। আর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু এ সময়সীমা রক্ষা হচ্ছে না।



মন্তব্য