kalerkantho


ছাদে উচ্চৈঃস্বরে গান

বৃদ্ধকে মারধরের কথা স্বীকার দুজন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পুরান ঢাকার ওয়ারীতে একটি বাড়ির ছাদে উচ্চৈঃস্বরে গান বাজানোর প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধ নাজমুল হককে মারধরের কথা স্বীকার করেছে আসামিরা। গত শুক্রবার সকালে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ৪৪ নম্বর বাড়িতে ওই মারধরের ঘটনায় নাজমুল হক মারা যান। এ ঘটনায় জড়িত আলতাফ হোসেন, তাঁর ছেলে সাজ্জাদ, মেয়ে রায়য়ান হাসনিন ও তাদের স্বজন মির্জা জাহিদ হাসানকে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. সোহেল রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা নাজমুল হককে মারধরের কথা স্বীকার করেছে। গতকাল শনিবার তাদের ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে সাজ্জাদ ও জাহিদ হাসানকে এক দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

নিহত নাজমুল হক (৬৫) একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তিনি পরিবার নিয়ে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ওই বাড়ির নবম তলায় থাকতেন। নিহতের ছেলে নাসিমুল হক বলেন, তাঁর বাবা নাজমুল হক আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। সমপ্রতি তাঁর বাইপাস সার্জারি করানো হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাসার ছাদে ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেনের ভাতিজা হৃদয়ের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান চলছিল। উচ্চৈঃস্বরে গান বাজানোর কারণে ফ্ল্যাটের জানালা ও মেঝে কাঁপছিল। তাঁর অসুস্থ বাবা ঘুমাতে পারছিলেন না। তখন তিনি নিচে গিয়ে কেয়ারটেকারকে বিষয়টি বললে আলতাফ হোসেন এসে দুর্ব্যবহার করেন। এর কিছুক্ষণ পরে গান বন্ধ হয়ে যায়। এর জের ধরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আলতাফ হোসেন, তাঁর স্ত্রী, ভাতিজা হৃদয়সহ আট-দশজন নিচে জড়ো হয়। তারা কেয়ারটেকার দিয়ে নাসিমুলকে ডেকে পাঠায়। পরে তিনিসহ তাঁর বাবা, বোন ও স্ত্রী নিচে নামেন। নামার সঙ্গে সঙ্গেই আলতাফ হোসেন, হৃদয়সহ অন্যরা তাঁর ওপর হামলা করে। তাঁর বাবা থামাতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর বাবা নাজমুল হক মাটিতে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।


মন্তব্য