kalerkantho


সংসদে রেলমন্ত্রী

অবৈধ দখলে রেলের সাড়ে তিন হাজার একর জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অবৈধ দখলে রেলের সাড়ে তিন হাজার একর জমি

বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমির পরিমাণ ৬১ হাজার ৮৬০ একর। এর মধ্যে রেলওয়ের নিজ দখলে থাকা জমির পরিমাণ ৫৬ হাজার ৯৭০ একর। আর অবৈধ দখলে আছে বাকিটা, অর্থাৎ তিন হাজার ৬৪৭ একর অন্যরা ভোগ করছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ দখলীয় রেলভূমি উদ্ধার এবং অবৈধ দখল মুক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রেলওয়ের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১২৩ একর রেলভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রেলওয়ের জমির পরিমাণ ২৫ হাজার ২৮ দশমিক ৬৬৯ হেক্টর বা ৬১ হাজার ৮৬০ একর। এর মধ্যে রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, পাঁচ হাজার ৮৫৫ দশমিক ৫৮৭ হেক্টর একর একসনা ইজারা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলো ডাবল লাইনে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩৪৭ কিলোমিটার রেলপথে ডাবল লাইন রয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি : সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা বেগমের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৫০ শতাংশ। পদ্মা নদীর তলদেশের মাটির স্তরের ভিন্নতার কারণে ১৪টি পিয়ার লোকেশনে পাইলের ডিজাইন চূড়ান্ত করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এ ধরনের কাজে অভিজ্ঞ দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আরো জানান, এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর একটি স্প্যান বসানো হয়েছে এবং চলতি জানুয়ারি মাসে আরো একটি স্প্যান বসানো হবে। পাইল ড্রাইভিং এবং পিয়ার কলামের পাশাপাশি অবশিষ্ট স্প্যানগুলো পর্যায়ক্রমে বসানোর মাধ্যমে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবদুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ‘অন-টেস্ট স্টিকার’ লাগিয়ে মোটরসাইকেল রাস্তায় চলাচল বন্ধ করার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ১০০ সিসি বা এর কম এবং ওজন ৯০ কেজি বা এর কম হলে রেজিস্ট্রেশন ফি ভ্যাটসহ ৯ হাজার ৩১৩ টাকা। ১০০ সিসির বেশি হলে রেজিস্ট্রেশন ফি ভ্যাটসহ ১২ হাজার ৭৩ টাকা। ক্রেতার কাছে হস্তান্তরের আগেই মোটরসাইকেল ও থ্রি হুইলার অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশনসহ যাবতীয় কার্যক্রম বিক্রয়কারী এজেন্ট বা ডিলার নিশ্চিত করবে—এমন সরকারি সিদ্ধান্ত রয়েছে।

বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭১ শতাংশ : সরকারদলীয় অন্য সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ৪১.১৫ শতাংশ। বর্তমানে দেশে সাক্ষরতার হার ৭১ শতাংশ। নারী সাক্ষরতার হার ৬৮.৯ শতাংশ এবং পুরুষ সাক্ষরতার হার ৭৩ শতাংশ।

মন্ত্রী আরো জানান, জেলাওয়ারি সাক্ষরতার হারের মধ্যে ঢাকায় ৭০.৫৪ শতাংশ, ঝালকাঠিতে ৬৬ দশমিক ৬৮, পিরোজপুরে ৬৪ দশমিক ৮৫, গাজীপুরে ৬২ দশমিক ৬০, নড়াইলে ৬১ দশমিক ২৭, বরিশালে ৬১ দশমিক ২৪, খুলনায় ৬০ দশমিক ১৪, ফেনীতে ৫৯ দশমিক ৬৩, বাগেরহাটে ৫৮.৯৮ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৮.৯১ শতাংশ, কুমিল্লা ৫৩ দশমিক ৩২, সিলেট ৫১ দশমিক ১৮ শতাংশ, রাজশাহী ৫২.৯৮ শতাংশ, রংপুর ৪৮.৫৫ শতাংশ ও ময়মনসিংহে ৪৩.৪৯ শতাংশ।



মন্তব্য