kalerkantho


‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে না পারলে জঙ্গিবাদ ছড়াবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে না পারলে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটবে বলে মনে করেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ। গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে এক সেমিনারে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমারে পাঠাতে হবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায়, যুদ্ধ করে নয়। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে না পারলে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। আর তা ছড়িয়ে পড়বে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায়।

বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস’ বিষয়ক বিশেষ সম্মেলনের প্রথম দিন ‘চট্টগ্রামের পাহাড় ও রোহিঙ্গা’ শীর্ষক ওই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)।

সেমিনারে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বছরের পর বছর ধরে সেখানে নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়ে আসছে। সেখান থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় কিছুই আনতে পারেনি। ভিটাবাড়ি, অর্থ-সম্পদ সব রেখে এসেছে। এসব কারণে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। আর এই হতাশা থেকে হিংস্রতা আসবে। তাদের এই হিংস্রতাকে কাজে লাগাবে লস্কর-ই-তৈয়বা, যারা রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছে। একবার দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটলে তা পাশের দেশ ভারত, চীনসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে। তখন জঙ্গিবাদকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নিয়ামুল নাসেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে শিক্ষক সোমেশ্বর চক্রবর্তী বলেন, রোহিঙ্গারা আসার পর কক্সবাজারে এখন প্রতি বর্গকিলোমিটারে মানুষের ঘনত্ব এক হাজার ৩০০-এর বেশি। এত মানুষের চাপে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়েছে। তারা পাহাড় কাটছে। তাঁর আশঙ্কা, রোহিঙ্গা শিশুরা দিন দিন অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়বে। এতে করে একসময় উগ্র সাম্প্রদায়িক গ্রুপ যোগ হবে। কারণ রোহিঙ্গা শিবিরে কী হচ্ছে, তা কেউ জানে না। সোমেশ্বর চক্রবর্তী আরো বলেন, মিয়ানমার সব সময় কালক্ষেপণ করে। এবারও তা করছে।

সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে এ পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার একর বনভূমি বেদখল হয়েছে। বন উজাড় হয়েছে। এ কারণে ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রোহিঙ্গারা যেভাবে পাহাড় কাটছে, তাতে আগামী বর্ষায় বড় ধরনের ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। লবণাক্ত পানি বাড়ছে। এটি খুবই উদ্বেগজনক।

সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন বাপার প্রতিনিধি মিহির বিশ্বাস ও শাহজাহান মৃধা। দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে।



মন্তব্য