kalerkantho


সরকারের চার বছরে তথ্য-প্রযুক্তি খাত

‘পদ্মা সেতুর মতো ডিজিটাল বাংলাদেশও দৃশ্যমান’

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উেক্ষপণ মার্চে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পদ্মা সেতুর মতো ডিজিটাল বাংলাদেশও আজ দৃশ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেছেন, সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রীকে যেমন রাস্তা বানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমনই আমাকে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেটের রাস্তা বানানোর দায়িত্ব। আদালতের জটিলতা কেটে যাওয়ায় শিগগিরই চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) মোবাইল সেবার তরঙ্গ নিলাম হবে। এ ছাড়া মার্চেই মহাকাশে উেক্ষপণ করা হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

সরকারের চার বছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে সাফল্য নিয়ে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এসব কথা বলেন। ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এগিয়ে যাওয়ার আরো চার বছর’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় আইসিটি বিভাগের চার বছরের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক। স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিটি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, সারা দেশে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমান দামে ইন্টারনেট দেওয়া উচিত। ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রমকে আরো বেগবান করতে নতুন প্রজন্মকে সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। ইন্টারনেট সেবাদাতা কম্পানিগুলো পানির দামে ব্যান্ডউইথড কিনে চড়া মুনাফায় বিক্রি করছে, যা ঠিক নয়। ইন্টারনেট সহজলভ্য করতে পারলে তরুণরা ঘরে বসেই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করবে, ঢাকামুখী হবে না। একই সঙ্গে নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত করাও একটি বড় বিষয়। মন্ত্রী বলেন, টেলিকম বিভাগের কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো ঐতিহাসিকভাবে রুগ্ণ। ডাক বিভাগের পোস্ট অফিসগুলোকে ডিজিটাল হাবে পরিণত করা হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটককে লাভজনক ও জনপ্রিয় করতে কল রেট কমানো হবে। টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) ও বিটিসিএলকে লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর আগামী ২৬ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উেক্ষপণ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ২০০৯ সালে সরকার গঠিত হওয়ার পর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে শুরু হয় এর বাস্তবায়ন। এরই মধ্যে এই অভিযাত্রার ৯ বছর পূর্ণ হয়েছে। আর বর্তমান সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অন্যতম সারথি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ পূর্ণ করেছে আরো চারটি বছর। এই সময়ে দেশের তথ্য-প্রযুক্তির অবিস্মরণীয় উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও অগ্রগতিতে এই বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কানেক্টিং ডিজিটাল বাংলাদেশ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ই-গভর্নমেন্ট ও আইসিটি শিল্পের উন্নয়ন—ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের এই চার স্তম্ভকে ঘিরেই পরিচালিত হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদের পরামর্শ ও নির্দেশে চার স্তম্ভ বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশবান্ধব নীতিমালা ও আইন প্রণয়নে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তার অধিকাংশই আজ দৃশ্যমান বাস্তবতা।

প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নের আওতায় ২০২১ সালে ২০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এরই মধ্যে সরকারি সেবার ৪০ শতাংশ ই-সেবায় রূপান্তর হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে তা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। আইসিটি শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে ২০০৯ সাল থেকে শুরু হয়ে এই খাতের রপ্তানি ২৬ মিলিয়ন ডলার থেকে গত বছর ৮০০ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। ২০১৮ সালে তা এক বিলিয়ন ডলার এবং ২০২১ সালে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

তথ্য-প্রযুক্তি খাতে চার বছরে সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে পলক বলেন, ১২ ডিসেম্বরকে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস হিসেবে ঘোষণা, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭ তে মানবিক রোবট সোফিয়াকে এনে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিভিত্তিক উন্নয়নের সঙ্গে দেশের মানুষকে পরিচিত করা, এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়েন্স অ্যাওয়ার্ড (এপিআইসিটি) ২০১৭ আয়োজন, জাতীয়ভাবে জরুরি সেবা প্রদানের জন্য ৩৩ লাখ ফোনকলের বিশ্লেষণ করে ৯৯৯ চালু, পেপাল-জুম সার্ভিস ও গুগল মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট চালু, ৯৪টি আইসিটি পণ্য আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার, আইসটি পণ্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা, হাইটেক পার্কে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০২৪ সাল পর্যন্ত ট্যাক্স হলিডে ঘোষণা, প্রতিবন্ধী ও শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য চাকরি মেলার আয়োজন করে যোগ্যদের চাকরির সুযোগ করে দেওয়া, দেশের ৬৪ জেলার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্পের আয়োজন করে তরুণ শিক্ষার্থীদের আইসিটিতে ক্যারিয়ার গড়ে তোলায় উদ্বুদ্ধ করা ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলির অন্যতম।

আইসিটি অবকাঠামো প্রতিষ্ঠায় দেশে ২৮টি হাইটেক/আইটি পার্ক নির্মাণের কার্যক্রম চলমান। এর মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ কর্মসংস্থান হবে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আইসিটি শিল্পের সুষম উন্নয়ন ও বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। পার্কটিতে এরই মধ্যে ৪১টি প্রতিষ্ঠানকে স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জনতা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ১৫টি প্রতিষ্ঠান এবং এর চতুর্থ তলায় ১০টি স্টার্ট-আপকে বিনা মূল্যে স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দেশের প্রথম হাইটেক পার্ক ‘বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি’র প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখানে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ‘সিলেট ইলেকট্রনিকস সিটি’র অবকাঠামো উন্নয়ন, রাজশাহীতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক’, জেলাপর্যায়ে আইটি/হাইটেক পার্ক স্থাপন (১২টি জেলা), দেশের সাতটি স্থানে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন স্টোর স্থাপনের কাজ চলমান।

উপজেলা পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে ইনফো-সরকার (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা থেকে ২,৬০০টি ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবারের সংযোগ ও প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে পয়েন্ট অফ প্রেজেন্স স্থাপন, লিজড লাইনের মাধ্যমে এক হাজার পুলিশ অফিসে সংযোগসহ পৃথক ভিপিএন স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। দেশের ৫৮টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ/প্রতিষ্ঠান, ২২৭টি সরকারি দপ্তর ও ৬৪টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ ১৮ হাজার ৪৩৪টি সরকারি অফিসকে একীভূত নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮৭৬টি ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।



মন্তব্য