kalerkantho


বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে আগামী শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব ইজতেমার ৫৩তম আয়োজনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে পুলিশ, র‌্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার-ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিসসহ সবাইকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জোন-১-এর টঙ্গী কার্যালয় প্রাঙ্গণে গতকাল রবিবার বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি নিয়ে সর্বশেষ প্রস্তুতিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল। সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হেলাল উদ্দিন, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ফজলুল করিম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ, ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মেজবাহ উদ্দিন, প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন, ড. রফিক উদ্দিন, রফিকুল ইসলামসহ বিশ্ব ইজতেমার কাজে নিয়োজিত প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভায় প্রশাসন, এলজিইডি, বিআরটিসি, বিআইডাব্লিউটিএ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, রেল কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর পক্ষ থেকে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।  

আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মেজবাহ উদ্দিন বলেন, বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতিকাজের প্রায় ৯০ শতাংশ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা বিভাগের মুসল্লিদের খিত্তার কাজটুকু কেবল বাকি। সেসব কাজ সংশ্লিষ্ট খিত্তার মুসল্লিরাই করে থাকেন এবং আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তা সম্পন্ন হয়ে যাবে।

আরেক শীর্ষ মুরব্বি রফিকুল ইসলাম বলেন, ইজতেমা ময়দানে দিল্লির মাওলানা সা’দ সাহেবের মতো লোকদের আসতে দেওয়া না হলে এটা আর বিশ্ব ইজতেমা হবে না। আঞ্চলিক ইজতেমা হয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে জাহিদ আহসান রাসেল এমপি বলেন, ‘বিশ্ব ইজতেমার কাজে আমাদের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। ময়দানের অভ্যন্তরে যা হয় তা পুরোপুরি ইজতেমা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকে।’ উপস্থিত শীর্ষ মুরব্বিদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে কে আসবেন না আসবেন তা পুরোটাই আপনাদের বিষয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আপনারা যাঁদের তালিকা দেবেন সে অনুযায়ী মুরব্বিরা আসবেন। বিশ্ব ইজতেমায় মুরব্বিদের আসা নিয়ে কারো ওপর দোষ না চাপানোর অনুরোধ করছি। তবে রোহিঙ্গারা যাতে কোনোক্রমেই ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।’ পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ বলেন, ইজতেমা উপলক্ষে প্রথম পর্বে সাড়ে ছয় হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ময়দানের প্রতিটি গেটে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারপাশে স্থাপিত র‌্যাবের ৯টি ও পুলিশের ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।

মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা দানে প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মঞ্জুরুল হক বলেন, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট টঙ্গী সরকারি হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।



মন্তব্য