kalerkantho


ক্রাইসিস গ্রুপের পর্যবেক্ষণ

বিশ্বকে ভোগাবে রোহিঙ্গাসহ ১০ সংকট

মেহেদী হাসান   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটসহ চলতি বছর বিশ্বজুড়ে আরো অন্তত ১০টি বড় সংকট প্রকট হয়ে উঠবে। সংঘাত মোকাবেলায় কাজ করা আন্তর্দেশীয় প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ এমনটিই মনে করছে। তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকটগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি-ইরান দ্বন্দ্ব, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, সিরিয়া, সাহেল, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইউক্রেন ও ভেনিজুয়েলা। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও সিইও রবার্ট ম্যালির মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকতর অন্তর্মুখী নীতি অব্যাহত থাকবে। এর প্রভাব পড়বে বিশ্ব ব্যবস্থায়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ক্রমবর্ধমান হারে সামরিকীকরণ হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের বোঝার একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের কাঁধে নেওয়ার পক্ষে ছিলেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক তার উল্টো। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে বোঝা সরানোর চেষ্টা করছেন। ট্রাম্পের আমলে বহুপক্ষবাদও (মাল্টিলেটারালিজম) সংকটে পড়েছে।

চলতি বছরের এক নম্বর সংকট হিসেবে উত্তর কোরিয়াকে স্থান দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ। যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে দেশটি অব্যাহত পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে। আরো পরীক্ষা চালানোর হুমকি কোরীয় উপদ্বীপে বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় উত্তর কোরিয়াকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি-ইরান দ্বন্দ্বকে সংকটের তালিকায় দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রাখা হয়েছে। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ব, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অধিকতর আগ্রাসী কৌশল এবং ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের নিয়ন্ত্রণের অবসান হওয়ায় ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবকে আরো বেশি দৃষ্টি দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। বলে রাখা ভালো, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। ইরানকে দায়ী করা হয় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের জন্য। এ অবস্থায় ওয়াশিংটন ও রিয়াদ একযোগে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাতে পারে।

সংকটগুলোর মধ্যে তৃতীয় শীর্ষ স্থান দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা সংকটকে। গত বছরের শেষ দিকে এ সংকট বিপজ্জনক নতুন মাত্রায় প্রবেশ করেছে। সংকটটি মিয়ানমারের কষ্টার্জিত গণতান্ত্রিক অর্জন ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ অঞ্চলের জন্যও সংকটটি হুমকি হয়ে উঠেছে। গত বছরের আগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ছয় লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এই রোহিঙ্গা নিপীড়নকে জাতিসংঘ জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে অভিহিত করেছে। রোহিঙ্গারা গণহত্যার শিকার হচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মজুরি কমে যাওয়ায় আশ্রিত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার সঙ্গে স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর বিরোধের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। ক্রাইসিস গ্রুপের আশঙ্কা, চলতি বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে সাম্প্রদায়িক সংঘাত কিংবা রাজনৈতিক বিভেদ বাড়াতে রোহিঙ্গা ইস্যুকে ব্যবহার করা হতে পারে। মিয়ানমারের জন্যও ঝুঁকি কম নয়। জঙ্গিগোষ্ঠী আরসা আবারও সংঘটিত হতে পারে। সংকট স্বীকার করে আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নকেই সমাধানের পথ বলে মনে করে ক্রাইসিস গ্রুপ।

ইয়েমেনের ৮০ লাখ বাসিন্দা দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ইতিমধ্যে দেশটিতে কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে ১০ লাখ বাসিন্দা। ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ। চলতি বছর ইয়েমেনের যুদ্ধ আরো খারাপ রূপ নিতে পারে।

২০১৮ সালে আফগান যুদ্ধ আরো জোরালো হবে। যুক্তরাষ্ট্র তার নতুন আফগাননীতির আলোকে দেশটিতে আরো সৈন্য পাঠিয়ে তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির মূল্য দিতে হবে বেসামরিক আফগানদের।

সাত বছরের যুদ্ধ শেষে ইরান ও রাশিয়ার সমর্থনে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার কিছুটা সুসংহত অবস্থায় ফিরলেও সংঘাত এখনো শেষ হয়নি।



মন্তব্য