kalerkantho


মানসিক স্বাস্থ্য আইনের খসড়া অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে কাউকে মানসিক রোগী সাজানো হলে অপরাধের শাস্তি এবং রোগীর সম্পত্তি তদারকির জন্য ব্যবস্থাপক নিয়োগের বিধান রেখে ‘মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৭’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। খসড়ায় প্রতি জেলায় মানসিক স্বাস্থ্য আদালত স্থাপনের বিধানও রয়েছে। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে সচিবালয়ে সংবাদ বিফ্রিংয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ১৯১২ সালের লোনেসি অ্যাক্ট দিয়ে মানসিক রোগীদের আইনি সহায়তা দেওয়া হতো। ১০৫ বছর পর সংস্কার হচ্ছে।

যা যা আছে : অনুমোদিত খসড়ায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে মানসিক স্বাস্থ্য রিভিউ ও মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিষয়ে কোনো অভিভাবক সন্তুষ্ট না হলে প্রতিকারের জন্য এই কমিটির কাছে আবেদন করতে পারবে। অনেক সময় পারিবারিক সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে পরিবারের সদস্যদের মানসিক রোগী সাজানো হয়। খসড়ায় এর প্রতিকারের বিধান রাখা হয়েছে। মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তি তাঁর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে অক্ষম হলে সরকার একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে ব্যবস্থাপক নিয়োগ করতে পারবে।

প্রতিটি জেলায় জেলা জজের অধীন মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আদালত প্রতিষ্ঠা করবে সরকার। আইনের অধীন অপরাধ আমলযোগ্য ও আপস অযোগ্য। তবে অপরাধগুলোকে জামিনযোগ্য রাখা হয়েছে।

কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স ছাড়া মানসিক হাসপাতাল পরিচালনা করলে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে জরিমানা ও অর্থদণ্ড দুই-ই বাড়বে। মানসিক রোগীকে দিয়ে অপরাধ করালে প্ররোচনাকারী ব্যক্তির পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হবে। পরিবারের সদস্যরা রোগীর সম্পত্তি চিহ্নিত করতে অসহযোগিতা করলে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া ইতিমধ্যে স্থাপিত সব বেসরকারি হাসপাতালকে আইন করার ৯০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স নিতে হবে। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অভিভাবক বা আত্মীয়দের আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিক্যাল অফিসার রোগীর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ভর্তির সিদ্ধান্ত দেবেন। স্বেচ্ছায় ভর্তীকৃত রোগী চিকিৎসা প্রত্যাখ্যানের ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারবে। তবে অনিচ্ছাকৃত ভর্তির ক্ষেত্রে রোগী চিকিৎসা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না।


মন্তব্য