kalerkantho


‘বর্জ্য’ বিক্রির টাকায় চলছে দুটি স্কুল

খুলনায় গৃহস্থালির বর্জ্যে প্রতি মাসে তৈরি হচ্ছে ৩০ টন জৈব সার

কৌশিক দে, খুলনা   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) গৃহস্থালির বর্জ্য থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন জৈব সার উৎপাদিত হচ্ছে। আর ওই সার বিক্রি করে পাওয়া অর্থে পরিচালিত হচ্ছে দুটি কারিগরি স্কুল। এভাবে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একদিকে পরিবেশ রক্ষা হচ্ছে, অন্যদিকে কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে শত শত কিশোরী।

কেসিসির সহযোগিতায় রাসটিক কম্পোস্ট জৈব প্লান্ট এ কাজ করছে। উদ্যোক্তারা জানান, পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় অর্থ পেলে এই প্লান্ট থেকে বছরে কমপক্ষে ১৫ হাজার টন বর্জ্য রিসাইক্লিং করা সম্ভব হবে।

সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনা শহরে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ হাজার টন গৃহস্থালির বর্জ্য জমা হয়। ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসব বর্জ্য সংগ্রহ করে নগরীর সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোতে (এসটিএস) রাখা হয়। সেখান থেকে গাড়িতে করে তা নিয়ে যাওয়া হয় বটিয়াঘাটা এলাকার রাজবাঁধ রাসটিক কম্পোস্ট জৈব প্লান্টে। এখানে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্যগুলোকে পৃথক করা হয়। অপচনশীল বর্জ্য হার্ড গার্বেজ হিসেবে স্থানীয়ভাবে বিক্রি হয়। আর পচনশীল বর্জ্য যায় সার উৎপাদন প্লান্টে। প্লান্টে গড়ে সাড়ে চার টন কাঁচামালের সঙ্গে প্রতিদিন ১০ শতাংশ গোবর, ১ শতাংশ করাত কলের কাঠের গুঁড়া সংমিশ্রণসহ মোট পাঁচ টন বানিয়ে বেড (পাইল) করা হয়। এরপর ৬৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ৮ থেকে ১০ দিন পর ওই বেড ভেঙে দেওয়া হয়। ওই সময়টাতে প্রতিটি বেড থেকে কমপক্ষে তিন কেজি পানি বের হয়, যা ট্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়। দুই দিন পর আবার বেড তৈরি করে ওই সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করা হয়। ১৪ দিন পর ৪০-৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফের বেডটি ভেঙে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় এক দিন রেখে ফের বেড তৈরি করা হয়। ১০ দিন পর ১৫-২০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় আবারও বেড ভেঙে দেওয়া হয়। আবার এক দিন এ অবস্থায় রেখে নতুন বেড তৈরি করা হয়। এর ১০ দিন পর কম্পোস্ট জৈব সারে পরিণত হয়। এভাবে ৪২-৪৩ দিনে পচনশীল বর্জ্য পরিপূর্ণ কম্পোস্ট সারে পরিণত হয়।

রাসটিক সূত্র জানায়, প্লান্টে প্রতিদিন ১০-১২ টন আবর্জনা রিসাইক্লিং করে এক হাজার ২০০ কেজি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করা হয়। সে অনুযায়ী বছরে চার হাজার টন আবর্জনা রিসাইক্লিং করে ৩৬০ টন কম্পোস্ট সার উৎপাদিত হয়। বাণিজ্যিকভাবে এসব সার ২১ টাকা কেজি দরে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা হয়।

রাসটিক কম্পোস্ট জৈব প্লান্টের নির্বাহী পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল নুর মোহাম্মদ বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিজমির জৈব গুণাগুণের মাত্রা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিষয়টি মাথায় রেখে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এই জৈব সার ব্যবহারে জমির গুণাগুণ বৃদ্ধিতে ৫-৭ শতাংশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এরই মধ্যে এ অঞ্চলের কৃষকরা ধান, পান ও নার্সারি এবং চিংড়িঘের প্রস্তুত করতে এই সার ব্যবহার করে সুফল পেয়েছে।

নুর মোহাম্মদ বলেন, প্রকল্পটি ব্যবসায়িক নয়, এখান থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে নগরীর ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে দুটি কারিগরি স্কুল ও বর্জ্য শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ওই স্কুলে মেয়েদের সেলাই, হাতের কাজসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ওই সব কিশোরী আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। অর্থ সহায়তা পেলে প্রকল্পটির কলেবর বাড়ানো সম্ভব হতো।

কেসিসির কনজারভেন্সি অফিসার আনিসুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি অনেকের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। এতে করে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি ব্যতিক্রম বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে।


মন্তব্য