kalerkantho


চট্টগ্রামে আটক দুই জঙ্গির মোবাইলে বিশেষ অ্যাপস

‘সংকেত’ বিশ্লেষণে গোয়েন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চট্টগ্রামে সদরঘাট থানা এলাকার পোর্ট সিটি হাউজিং এলাকায় চিহ্নিত জঙ্গি আস্তানায় নব্য জেএমবির আরো নেতাদের যাতায়াত ছিল বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। মিনু ভবনের পঞ্চম তলার বাসাটিতে মেজবাহ ও মনছুর ওরফে জীবন নামে আরো দুজন ছিল বলে জানা গেছে। আটক জঙ্গি আশফাকুর রহমান ও রবিকুল হাসানের মোবাইল ফোনে পাওয়া গেছে তাদের রক্ষায় যোগাযোগে ব্যবহৃত বিশেষ অ্যাপসসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা বিশ্লেষণে গোয়েন্দারা পলাতক অন্য জঙ্গিদের অবস্থান জানার চেষ্টা করছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এসব জানা গেছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ও নগর গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার (পশ্চিম) এ এ এম হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিমান্ডে নিয়ে দুই জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তাদের কাছে অনেক প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইবেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। সে তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সূত্র জানায়, পলাতক দুই জঙ্গি মেজবাহ ও মনছুর ছাড়াও ‘ডন’ নামে একজনের ব্যাপারে কিছু তথ্য মিলেছে। এ ব্যক্তি তাদের নেতা বলে জানা গেছে। তবে তার অবস্থান ও বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। আটক জঙ্গিদের মোবাইল ফোনে একটি বিশেষ অ্যাপস পাওয়া গেছে। যার মাধ্যমে জঙ্গিরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখে। সেখানে জঙ্গিদের চ্যাটিংসহ যোগাযোগের আলামত মিলেছে। ‘হিযরত’সহ কিছু সাংকেতিক শব্দ রয়েছে তাদের বার্তায়। এসব কোথাও নাশকতার উদ্দেশ্যে যাতায়াতের ইঙ্গিত করছে কি না তা যাচাই করছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

তদন্ত কর্মকর্তা আবতাফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জঙ্গিদের কাছে তাদের গুরু বা তাদের ওপরের স্তরের নেতা ডন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তারা দাবি করছে, ডনের সঙ্গে কখনোই দেখা হয়নি। তবে অ্যাপসের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ হতো।’

গোয়েন্দা পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আশফাক স্পষ্ট কিছু না জানালেও তাদের নেতা ডন ভারতে অবস্থান করতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন। তবে ডনের অবস্থান অন্য কোনো দেশেও হতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। ডনের প্রকৃত পরিচয়সহ অবস্থান জানতে চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানায়, চার জঙ্গি উত্তরাঞ্চল ও কুমিল্লা থেকে ‘হিযরত’ করে চট্টগ্রামে পৌঁছে সদরঘাট থানা উড়িয়ে দেওয়ার জন্য। থানার অবস্থান লাল কালিতে চিহ্নিত করা একটি ম্যাপ উদ্ধার করা হয়েছে। নব্য জেএমবির এ গ্রুপটি আর কোনো নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল কি না তা যাচাইয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সোমবার মধ্যরাতে সদরঘাট এলাকার আস্তানা থেকে ১০টি গ্রেনেডসহ আশফাকুর রহমান ও রবিকুল হাসান নামের দুই জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে হাজির করা হলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


মন্তব্য