kalerkantho


মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় হিন্দু রোহিঙ্গারা

সম্পত্তি ফিরে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মিয়ানমার হিন্দু রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। আর হিন্দু রোহিঙ্গারাও ফিরে যেতে চায়। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কার মধ্যে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা হিন্দুদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ফিরে যাওয়ার আগ্রহের কথা জানা গেছে। তবে তাদের শঙ্কা আছে রাখাইন রাজ্যে ফেলে আসা সম্পত্তি নিয়ে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের পর থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের প্রায় সবাই মুসলমান। হিন্দু রোহিঙ্গা হাতে গোনা কয়েকজন। মিয়ানমার ৪৫০ জন হিন্দু রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দেখালেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বাংলাদেশ চায় না, ধর্মীয় পরিচয়ে প্রত্যাবাসন শুরু হোক।

এদিকে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু রোহিঙ্গাদের জন্য উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের বাগানে নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ইতিমধ্যে ১০০টি পরিবারের জন্য নতুন ঘর তৈরি করে দিয়েছে। আগামী কদিনের মধ্যেই নতুন তৈরি করা ঘরগুলো হিন্দুদের বরাদ্দ দেওয়া হবে।

টানা চার মাস শতাধিক হিন্দু রোহিঙ্গা পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে পশ্চিম হিন্দুপাড়ার একটি পরিত্যক্ত মুরগির খামারে দিন-রাত কাটিয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কজন গোপনে রাখাইন রাজ্যে ফিরে গেছে। বর্তমানে যারা আছে তারাও ফিরতে উদগ্রীব।

জানা গেছে, গত বছরের ২৫ আগস্টের পরপরই রাখাইনের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছিল ১৪৫ পরিবারের ৫৬০ জন হিন্দু রোহিঙ্গা। বর্তমানে কুতুপালং আশ্রয়কেন্দ্রে  ১১০টি পরিবারের ৩৯৮ জন হিন্দু রোহিঙ্গা থাকলেও বাদ-বাকি হিন্দু রোহিঙ্গাদের তথ্য নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। তবে কুতুপালং আশ্রয় শিবিরে থাকা হিন্দু রোহিঙ্গারা জানায়, তাদের অনেকেই গোপনে মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরে গেছে।

ফিরে যেতে আগ্রহী হিন্দু রোহিঙ্গাদের জন্য এ দেশে নতুন করে ঘর নির্মাণ প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান বলেন, ‘এত দিন ধরে সুবিধামতো জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই তাদের জন্য বসতি নির্মাণে দেরি হয়।’

নিরঞ্জন রুদ্র (৫০) জানান, ‘আমরা এসেছি রাখাইনের চিকনছড়ি এলাকা থেকে। ওখানেই আমাদের বসতভিটা ও জায়গা-জমি রয়েছে। সেখানে আমাদের ফেলে আসা সহায়-সম্পদ ফেরত দিতে হবে।’ তিনি বলেন, তাঁরা (হিন্দু) সবাই স্বদেশে ফিরে যেতে অপেক্ষায় রয়েছেন। ডাক পেলেই যাবেন।

বিজয় রাম পাল (৩৫) জানান, ‘ফিরে যাওয়ার প্রাক্কালে আইওএম কেনইবা আমাদের নতুন করে ঘর তৈরি করে দিচ্ছে তা জানি না।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার তাদের কেবল আশ্রয় দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি। সেই সঙ্গে তাদের খাবার-দাবার থেকে শুরু করে সার্বক্ষণিক পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তাও দিয়ে যাচ্ছে।

ভুবন পাল (২১) নামের হিন্দু রোহিঙ্গা বলেন, ‘স্বদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য যখনই মনস্থির করেছি তখনই মিয়ানমারের মংডু থেকে আমাদের হিন্দু নেতা নির্মল ধরের উদ্বেগজনক মোবাইল পেয়েছি। শুনেছি, মিয়ানমার সরকার আমাদের ফেলে আসা ভিটার বদলে মংডু শহরের দক্ষিণে চার মাইল নামক স্থানে পুনর্বাসন করবে।’

ভুবন পাল জানান, মিয়ানমার সরকারের এমন উদ্যোগে তাঁদের আপত্তি রয়েছে।

জগদিস শীলসহ আরো বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উখিয়া পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি, হিন্দু নেতা ও ইউপি সদস্য স্বপন শর্মা রনি বলেন, আশ্রয় নেওয়া হিন্দু রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে আগ্রহী। তবে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান গত সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রত্যাবাসন বিষয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা তিনি পাননি।



মন্তব্য