kalerkantho


ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

সময়মতো সম্মেলন চায় নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দানকারী ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করবে সংগঠনটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এ সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনের দাবি জানিয়েছে কমিটির একটি অংশ। তারা কয়েক দিন ধরেই সংগঠনের গঠনতন্ত্র যথাযথ অনুসরণ করে সময়মতো কেন্দ্রীয় সম্মেলনের দাবি জানিয়ে আসছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। এর পর থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে সংগঠন চলছে। বর্তমান কমিটির সময়ে ছাত্রলীগের তেমন কোনো অর্জনও নেই। গত বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগকে নিরক্ষরতা দূরীকরণে কাজ করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন; কিন্তু বর্তমান কমিটি সেই পরামর্শ বাস্তবায়নে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

ওই নেতাদের মতে, ছাত্রলীগের যেকোনো পর্যায়ের কমিটিতে স্থান পেতে হলে বয়সের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুসারে ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পেতে হলে বয়স অনধিক ২৭ হতে হবে। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে এই বয়স ২৯ বছর পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়। ফলে একটি কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর দীর্ঘদিন থাকলে অভিজ্ঞ ও দক্ষ অনেক নেতাই বয়সের বাধ্যবাধকতায় পরবর্তী কমিটিতে স্থান পান না। এতে অনভিজ্ঞ ও তুলনামূলক কম যোগ্যতাসম্পন্ন নেতারা কমিটিতে আসেন। এতে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে যথাসময়ে সম্মেলন হওয়া জরুরি।

জানা গেছে, ছাত্রলীগকে গঠনতন্ত্র অনুসারে পরিচালনার দাবিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতা আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। এ নিয়ে সম্প্রতি ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড তত্ত্বাবধান করেন এমন কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে বৈঠকও করেছেন ছাত্রলীগের নেতারা। ছাত্রলীগের ওই নেতারা তাঁদের বক্তব্য গণমাধ্যমকে জানাতে মঙ্গলবার টিএসসিতে একটি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। তবে পরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শে সংবাদ সম্মেলনটি বাতিল করেন।

জানা যায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সম্পাদক ও সহসম্পাদক পর্যায়ের বড় অংশই যথাসময়ে সম্মেলনের পক্ষে। কারণ এই পদের নেতাদের বয়সসীমা ২৭ বছরের মধ্যে রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে রাজি নন। সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগাঠনিক সম্পাদক পদের নেতাদের গুটি কয়েক ছাড়া বড় অংশেরই বয়স পেরিয়ে গেছে। গঠনতন্ত্রের বাধ্যবাধকতায় কমিটিতে আসার আর সুযোগ নেই। এ জন্য তাঁরা কমিটির মেয়াদ বাড়ুক—এটার পক্ষে। আর যাঁদের বয়স আছে তাঁরা চাচ্ছেন অতিদ্রুত সম্মেলন আয়োজন হোক।

সহসভাপতি আরিফুর রহমান লিমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ৭০ বছরের পথপরিক্রমায় ছাত্রলীগ অনেক দূর এগিয়েছে। দেশের নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করবে ছাত্রলীগ। সম্মেলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা যখন চাইবেন তখনই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তিনিই আমাদের সব। তিনি যখন বলবেন তখনই সম্মেলন হবে। এর বাইরে যাঁরা কথা বলেন তাঁরা সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন।’

সহসভাপতি মেহেদী হাসান রনি বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগ পরিচালিত হয়। সেই গঠনতন্ত্রের ধারাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলাই হোক ৭০ বছরে নতুন অঙ্গীকার। দুই বছর পর পর সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হচ্ছে না। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও সম্মেলনের কোনো প্রস্তুতি নেই। সব কিছুই আদর্শিক ও গঠনতান্ত্রিক চর্চার বাইরে চলে গেছে।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি : ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকাল ৬টায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কেক কাটা হবে।

 


মন্তব্য