kalerkantho


সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী

অতীত উদাহরণ তুলে ধরায় বিভ্রান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ঘুষ নিয়ে যে বক্তব্যের জন্য তাঁর সমালোচনা হচ্ছে, তা তিনি বলেছিলেন অতীতের উদাহরণ দিতে গিয়ে। বর্তমান পরিস্থিতি ততটা খারাপ নয়। তাঁর বক্তব্য ‘খণ্ডিত আকারে’ প্রচার করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘গত ২৪ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের একটি অনুষ্ঠানের সংবাদ বেশির ভাগ গণমাধ্যমে যথোপযুক্তভাবে তুলে ধরা হলেও কতিপয় পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায় আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রকাশিত হওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সেই বিভ্রান্তির ওপর ভিত্তি করে কতিপয় বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতামতও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’ গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে নিজের বক্তব্যের লিখিত ব্যাখ্যা দেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে  সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থার মধ্যে ভাবমূর্তির দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের দুর্বলতা ছিল দৃশ্যমান। কর্মকর্তারা ঘুষ-দুর্নীতিতে ছিলেন ‘আকণ্ঠ নিমজ্জিত’। এ সবই ছিল পূর্ববর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকারের অপশাসনের ফসল। সেই সময় ডিআইএ কর্মকর্তারা স্কুল-কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে অসহায় শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার ঘুষের খাম গ্রহণ করার সময় বলতেন, ‘এর ভাগ ওপরেও দিতে হয়।’ এতে শিক্ষক-কর্মচারীরা মনে করতে বাধ্য হতেন, তাঁদের দেওয়া ঘুষ শুধু পরিদর্শনকারী অফিসাররাই খান না, ঊর্ধ্বতন আমলারাও পান, এমনকি মন্ত্রী হিসেবে আমিও পাই।’ স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষক-কর্মচারীরা মনে করতেন, ‘অফিসাররা চোর, মন্ত্রীও চোর’।”

নাহিদ বলেন, “সে সময় তাঁদের ঘুষ-দুর্নীতি থেকে বিরত রাখার পরিবেশ তো ছিলই না, অনেক শিক্ষক এসে আমার কাছে কান্নাকাটি করে বলতেন, ‘আমরা নিম্ন বেতনের চাকরি করি, এত টাকা আমরা কোথা থেকে দেব? এক মাসের বেতনের সম্পূর্ণ টাকা ঘুষ দিলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা খাব কী? ঘুষের মাত্রা আরেকটু সহনীয় হলেও বাঁচতাম।’ ২৪ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানে অতীতের ওই সব ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরতে গিয়েই আমি উদ্ধৃতি দিয়েছিলাম, ‘ঘুষের সহনীয় মাত্রা’ এবং ‘অফিসাররা চোর’, ‘মন্ত্রী চোর’।”

বিএনপি-জামায়াতের সেই অরাজকতা থেকে ডিআইএকে আজকের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। শিক্ষা খাতের দুর্নীতি বিশ্বের তুলনায় অনেক কম। বিশ্বে শিক্ষাক্ষেত্রে গড় দুর্নীতির হার ১৭ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা ১২ শতাংশ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। প্রাথমিকের শিক্ষকদেরও স্যার সম্বোধন করেন। মানুষের সঙ্গে ব্যবহারে নমনীয় হলেও নীতি, আদর্শ, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি ‘দৃঢ় এবং কঠোর’। তিনি বিনয়ী কিন্তু নীতির দিক থেকে অবিচল। কেউ এ বিষয়গুলোকে অসহায়ত্ব মনে করলে তা হবে অন্যায়।

শিক্ষামন্ত্রী বিশিষ্টজনদের উদ্দেশে বলেন, ‘সবিনয়ে বলতে চাই, সুদীর্ঘকাল ধরে আপনারা আমার সততার সংগ্রাম, নীতি, আদর্শ, দায়িত্ববোধ সম্পর্কে অবগত আছেন। গণমাধ্যমের খণ্ডিত ভিত্তিহীন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে কোনো মন্তব্য করার আগে সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করলে অনেক বেশি খুশি হতাম।’

শিক্ষামন্ত্রীর ওই দিনের বক্তব্যকে কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খান’, ‘মন্ত্রীরা চোর, আমিও চোর’ ইত্যাদি শিরোনামে প্রকাশ করে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে বিভিন্ন মহল থেকে। বিএনপি ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে।



মন্তব্য