kalerkantho


গাড়িতেই পড়ে ছিল মোবাইল ফোন অথচ কিশোরকে ক্ষতবিক্ষত

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মোবাইল ফোন চুরি করেছে অভিযোগ দিয়ে কিশোর হেলপারের চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে পানি ঢালে ট্রাকচালক। এরপর প্লাস দিয়ে টেনে ক্ষতবিক্ষত করা হয় হাত, মুখ ও যৌনাঙ্গ। এমনকি সারা রাত শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় ট্রাকের ওপরে। অথচ হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি পরে পাওয়া গেছে গাড়িতেই।

গত সোমবার রাতে খাগড়াছড়ি জেলা শহরে ঘটেছে এ নির্মম ঘটনা। নির্যাতিত কিশোর নুর মোহাম্মদ (১৫) জেলার দীঘিনালার জামতলি এলাকার মৃত সুলতান মিস্ত্রির ছেলে। আর নির্যাতনকারী ট্রাকচালক সোহেল খাগড়াছড়িতে থেকে ট্রাক চালালেও তার স্থায়ী ঠিকানা জানা যায়নি।

প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর গতকাল বুধবার ওই কিশোরকে নিয়ে এসে তার মা রহিমা খাতুন স্থানীয়দের বিষয়টি জানান। তবে তখনো থানায় অভিযোগ করা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই গরিব, কী করব বুঝতে পারছি না।’

নুর মোহাম্মদ কালের কণ্ঠকে জানায়, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম-ঢাকা ঘুরে এসে ট্রাকটি খাগড়াছড়ি টার্মিনালে এনে রাখে চালক। সোমবার সকালে সে চালক সোহেলকে বলে জেলা শহরে তার বোনের বাসায় চলে যায়। সন্ধ্যার আগে ফিরে এলে চালক তার মোবাইল ফোন চুরি করার অভিযোগ দিয়ে গামছা দিয়ে তাঁর চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর অন্য এক গাড়ির হেলপার মতি মিয়ার সহযোগিতায় তার মুখে দীর্ঘক্ষণ পানি ঢালে। সে মোবাইল ফোন চুরি করেনি জানিয়ে আকুতি করলেও নির্যাতন চালাতে থাকে চালক।

নুর মোহাম্মদ আরো জানায়, একপর্যায়ে রাতে চালক সোহেল ও মতি দুজন তাকে ট্রাকে তুলে নিয়ে যায় জেলা শহরের অদূরে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এলাকায়। সেখানে তারা মদপান করে আবারও শুরু করে নির্যাতন। ওই সময় প্লাস দিয়ে তার হাত, মুখ, কান ও যৌনাঙ্গের চামড়া ক্ষতবিক্ষত করা হয়। মধ্যরাত পর্যন্ত এভাবে নির্যাতন করে আবারও নিয়ে যায় টার্মিনালে। সেখানে ট্রাকের ওপরেই শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় সারা রাত। একপর্যায়ে গাড়িতেই মোবাইল ফোনটি পাওয়ার পর সকালে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।



মন্তব্য