kalerkantho


আগামীকাল থেকে ঢাকায় যাত্রা শুরু করছে ‘বাতিঘর’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অষ্টম তলায় যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বইয়ের সুপার শপ ‘বাতিঘর’। আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় ঢাকায় ‘বাতিঘরের’ উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। শতাধিক বিষয়, দশ হাজার লেখক, এক হাজার দেশি-বিদেশি প্রকাশনাসহ লক্ষাধিক বই রয়েছে সুপার শপটিতে।

গতকাল বুধবার দুপুরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আট তলায় অবস্থিত বাতিঘর লাইব্রেরিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম ও বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আট তলায় প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুটের জায়গায় আধুনিক এই বইয়ের সুপার স্টোর গড়ে তোলা হয়েছে। রাজধানীর অন্যতম মুঘল স্থাপত্য লালবাগ কেল্লার আদলে নির্মাণ করা হয়েছে এই গ্রন্থাগারটি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে থাকছে সংরক্ষিত প্রকাশক কর্নার, শিশু-কিশোর কর্নার, লিটল ম্যাগাজিন ও সাহিত্য সাময়িকী কর্নার এবং ক্যাফে। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘এত সুন্দর বইয়ের একটি দোকান দেখে আমি খুবই বিস্মিত হয়েছি। সুন্দর ও নিপুণভাবে তৈরি করা হয়েছে এটি। চট্টগ্রামে বাতিঘর সফল হয়েছে, পাঠকদের চাহিদা মিটেছে। ঢাকার বাতিঘরও সফল হবে। এর কারণ হলো বাঙালির মনের আকুতি বাতিঘর বুঝতে পেরেছে। এখানে শিল্পের, সাহিত্যের ও সংস্কৃতিমনা মানুষ এসে ভিড় জমাবে বলে আশা করি।’

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে বই পড়ার সংস্কৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি। ছোটবেলায় দেখতাম স্কুলে স্কুলে লাইব্রেরি ছিল, বাড়ির সবাই বই পড়তেন। কিন্তু এখন এই বই পড়ার সংস্কৃতিটি হারিয়ে গেছে। আমাদের এই সংস্কৃতিটি সারা দেশের মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে বাংলা একাডেমিতে মাত্র একটি বড় বইমেলা হয় যেটা খুবই দুঃখজনক। আমাদের আরো বেশি বেশি ভালো কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে ভালো কাজের খুব অভাব।’

মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বাতিঘর চট্টগ্রামে শুরু হলেও দেশব্যাপী অল্প সময়ে পাঠকের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তাই ঢাকায় এই শপের যাত্রা শুরুর মাধ্যমে পাঠকের বই প্রাপ্তির পথ আরো সহজ হলো। ‘বাতিঘর’ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো আলোকিত মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।’



মন্তব্য