kalerkantho


কাপাসিয়ায় মাফিজুর হত্যাকাণ্ড

অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্যই হত্যা, বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক যুবকের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের এক সপ্তাহ পর বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের অভিযানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক যুবককে আটকের পর তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই যুবক গতকাল বুধবার বিকেলে গাজীপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে ওই যুবক জানিয়েছে, ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে যাত্রী সেজে কৌশলে সে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ চালককে তিন সদস্যের একটি ছিনতাইকারী দলের হাতে তুলে দিয়েছিল। পরে তারা চালককে জবাই করে হত্যার পর অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া ওই যুবকের নাম রাকিব মিয়া (২২)। সে পাশের তরুণ পশ্চিমপাড়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। রাকিবের দেওয়া তথ্য মতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরো তিনজন হলো ইসমাইল, আকরাম ও শামীম। তাদের মধ্যে ইসমাইল ও আকরাম রাকিবের প্রতিবেশী, শামীমের বাড়ি উপজেলা সদরের সাফাইশ্রী এলাকায়। কাপাসিয়া থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ওই তিনজন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক মাফিজুর রহমান (১৮) নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর গত ২০ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে একটি বাগানের ভেতর থেকে পুলিশ তাঁর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছিল। মাফিজুর কাপাসিয়া সদর ডাকঘরের নৈশপ্রহরী আইয়ুবুর রহমানের ছেলে।

কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধারের দিনই অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে মাফিজুরের বাবা আইয়ুবুর রহমান মামলা করেন। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পাশের তরুণ পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে রাকিব মিয়াকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে স্বীকার করে সে। পরে তার (রাকিব) দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রাত ১টার দিকে পাশের হরদারটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাগানের ঝোপের ভেতর মাটির নিচে পুঁতে রাখা বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়।

থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আরো জানান, ওই ঘটনায় রাকিব মিয়া গতকাল বিকেলে গাজীপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। স্বীকারোক্তিতে সে (রাকিব) জানিয়েছে, তার দুই প্রতিবেশী ইসমাইল, আকরাম ও পাশের সাফাইশ্রী এলাকার শামীম ছিনতাইকারী দলের দুর্ধর্ষ সদস্য। ওই তিনজন তাকে ১৫ হাজার টাকা দেবে বলে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল সে। পরে তারা যাত্রী সেজে লেপতোষক নেওয়ার কথা বলে থানার সামনে প্রধান সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে। তার (রাকিব) বাড়ির সামনে ওই তিনজন নেমে অটোরিকশা রেখে চালক মাফিজুরকে ঘরে লেপতোষক পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে। লেপতোষক পৌঁছে দিয়ে ফিরে ওই তিন যাত্রীকে খুঁজে না পেয়ে রাকিবের কাছে ভাড়া চান মাফিজুর। পরে রাকিব ভাড়া দেওয়ার জন্য ওই তিনজনকে খোঁজার কথা বলে মাফিজুরকে পাশের খালেকেরটেক বাগানে নিয়ে হত্যা করে।


মন্তব্য